নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে আবারো নৌকার মনোনয়ন পেল মেয়র আইভী

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : টানা দুই মেয়াদে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করে আসা সেলিনা হায়াত আইভীর হাতেই আগামী নির্বাচনে নৌকার ভার তুলে দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর)  বিকালে গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড ও দলের সংসদীয় বোর্ডের যৌথ সভায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আইভীর মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়।

বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য ও মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন সেলিনা হায়াত আইভী। আজকের মনোনয়ন বোর্ডে এই সিদ্ধান্তই হয়েছে।”

নারায়ণগঞ্জ সিটিতে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে চারজন নেতার নাম আসে। এর মধ্যে থেকে আইভীকেই আবারও বেছে নিল আওয়ামী লীগ।

উল্লেখ্য, এবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৃতীয় নির্বাচন হবে। এর আগে দুই নির্বাচনে সিটির মেয়র হয়েছিলেন সেলিনা হায়াত আইভী।

২০১১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান এমপি শামীম ওসমানকে পরাজিত করে নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে সেলিনা হায়াত আইভী বিজয়ী হয়েছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ সিটির ২৭ ওয়ার্ডের এই সিটি করপোরেশনে সবশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর। সেবার বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে এই সিটির মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী এই নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ আগামী ১৫ ডিসেম্বর। এরপর ২০ ডিসেম্বর মনোনানয়পত্র যাচাই-বাছাই চলবে। বাছাইয়ে বৈধ প্রার্থীরা ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন। দুই সপ্তাহের প্রচারণা শেষে নাসিক নির্বাচনের ভোট নেওয়া হবে ১৬ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

২০১১ সালের ৫ মে সিদ্ধিরগঞ্জ, কদমরসূল ও নারায়ণগঞ্জ পৌরসভাকে ২৭টি ওয়ার্ডে বিন্যস্ত করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠন করা হয়।

ওই বছরেরই ২৩ জুন দেশের সপ্তম সিটি করপোরেশন হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে এই সিটি করপোরেশন। চার মাস পর ৩০ অক্টোবর প্রথমবারের মতো ভোট হয় নাসিকে। ওই নির্বাচনে মেয়র পদে জয় পান ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। সেবার তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। তবে তিনি মাঝপথেই ভোট বর্জন করেন। আর দু’জনে দলীয় সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করলেও ভোট ছিল নির্দলীয়।

এরপর নাসিকের দ্বিতীয় ও সবশেষ নির্বাচন হয় ২০১৬ সালের ২১ ডিসেম্বর। এ নির্বাচনে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। নির্বাচনে আইভী ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬১১ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button