বিমানবন্দরে সদ্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুরাদ, এমিরেটসের ফ্লাইটে রাতেই দেশ ছাড়ছেন
গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : পদ হারানো তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান বৃহস্পতিবার রাতেই দেশ ছাড়ছেন।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার দুটি সূত্র সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) রাতে তাকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ রজনীগন্ধায় দেখা যায়।
ইমিগ্রেশন পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “আমরা বিভিন্ন সংস্থাকে বিষয়টি জানিয়েছি, উনার বিষয়ে কোনো এমবার্গো (নিষেধাজ্ঞা) রয়েছে কি না? কোনো এমবার্গো না থাকলে ইমিগ্রেশন করে দিতে হবে। তিনি এখন এয়ারপোর্টে রয়েছেন।”
বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে উঠবেন মুরাদ হাসান। পরে দুবাই হয়ে তাঁর গন্তব্য কানাডার টরন্টো। ওই ফ্লাইটের টিকেট মুরাদের রয়েছে বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
মুরাদ হাসান রাত ৯টা ২৫ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ রজনীগন্ধায় পৌঁছান বলেও সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
অডিও কেলেঙ্কারির পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত মঙ্গলবারই তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন মুরাদ।
মুরাদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হলেও তার দেশত্যাগে কোনো বাধা নেই বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ইতোমধ্যে জানিয়েছেন।
সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাতনিকে নিয়ে বর্ণ ও নারীর প্রতি বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে সমালোচনায় পড়েন মুরাদ হাসান।
এরপর চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে তার অশালীন আচরণের একটি অডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেত্রীদের নিয়ে মুরাদের অশালীন বক্তব্যের অডিও ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে মুরাদের বিদায় ঘণ্টা বেজে যায়। সোমবার আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, মুরাদকে পদত্যাগ করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
সোমবার থেকেই অগোচরে থাকা মুরাদ পরদিন তার পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন তার দপ্তরে। এরপর সেদিনই তা গৃহীত হয়।
এরপর জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগ ও সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি থেকেও মুরাদকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এসবের মধ্যে মুরাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও মঙ্গলবার দুপুরে এক ফেইসবুক পোস্টে ক্ষমা চেয়ে তিনি লিখেছিলেন, “আমি যদি কোন ভুল করে থাকি অথবা আমার কথায় মা-বোনদের মনে কষ্ট দিয়ে থাকি, তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন।”
এরপর বুধবার বিকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেইসবুক পাতায় আরেক পোস্টে তিনি লেখেন,“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পরম শ্রদ্ধেয় মমতাময়ী মা,বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা, আমি যে ভুল করেছি তা আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে মাফ করে দিবেন। আপনি যে সিদ্ধান্ত দিবেন তা আমি সবসময়ই মাথা পেতে নিবো আমার বাবার মতো।”
তুমুল সমালোচনা শুরুর পর সোমবার ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে যাননি মুরাদ। তখন থেকে সচিবালয়েও অনুপস্থিত ছিলেন তিনি।
সোমবার চট্টগ্রামের একটি পাঁচতারকা হোটেলে তিনি অবস্থান করেছিলেন বলে গণমাধ্যমের খবর আসে। তবে রাতেই তিনি ওই হোটেল ছাড়েন।
এই পুরোটা সময় তার টেলিফোনও বন্ধ ছিল।
এদিকে পদত্যাগের পর মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগকর্মীদের নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্যের অভিযোগে মুরাদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় অভিযোগ করেন এক ছাত্রলীগ নেতা।
তার ওই অভিযোগ জিডি হিসেবে নিয়ে তার তদন্ত শুরুর কথা বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার হারুন অর রশিদ।
তবে মুরাদকে নিয়ে প্রশ্নে বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল সাংবাদিকদের বলেন, “এগুলো (মুরাদের বিদেশ যাওয়ার খবর) আমার জানা নেই। উনি বিদেশ যাবেন, নাকি স্বদেশে থাকবেন, সেটা তার ব্যাপার। এ ব্যাপারে আমাদের কিছু বলার নেই।”



