গাজীপুরে ঝালমুড়ির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অটোরিকশা ছিনতাই, চালককে হত্যা: গ্রেপ্তার ৫
গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : গাজীপুরে ছদ্মবেশী ছিনতাইকারীরা ঝালমুড়ির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে চালককে অচেতন করে পুকুরে ফেলে ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা ছিনতাই করে। পরে পুকুরের পানিতে ডুবে অটোরিকশা চালকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার এবং ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা উদ্ধার করেছে গাজীপুর মেট্টাপলিটন পুলিশ।

বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গাজীপুর মেট্টাপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ইলতুৎ মিশ এসব তথ্য জানান।
নিহত অটোরিকশা চালক রংপুর সদরের কাটাবাড়ি এলাকার মৃত রুস্তম আলীর হুমায়ুন কবির। তিনি মহানগরের দেশীপাড়া এলাকায় বসবাস করে অটোরিকশা চালাতেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, কুমিল্লার মুরাদনগর থানার লক্ষীপুর গুচ্ছগ্রাম এলাকার খোরশেদ আলমের ছেলে আলমগীর (৩০), পাবনার আতাইকোলা থানার বাউখোলা ঘোনাপাড়া এলাকার নূরুলের ছেলে শামসুল (৩২), বরিশালের উজিরপুর থানার বড়তা এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে হাফিজুর রহমান ওরফে টুকু ওরফে হাফিজ, একই জেলা ও থানার গাববাড়ী সরদারবাড়ী এলাকার আবদুল হাকিম সরদারের আল মামুন সরদার ওরফে আল-আমীন এবং নেত্রকোনার কেন্দুয়া পালোরা এলাকার মৃত আবদুর রশিদের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩৪)।

সংবাদ সম্মেলনে উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ইলতুৎ মিশ বলেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি দুপুর পৌনে ১২টার দিকে অটোরিকশা নিয়ে দেশীপাড়ার বাসা হতে বের হয়ে আর ফিরেনি হুমায়ুন কবির। এ ঘটনায় তার স্ত্রী সেবেনা পারভীন জিএমপি সদর থানায় জিডি করে। অপরদিকে ১২ ফেব্রুয়ারি মহানগরের কাশিমপুর থানার লোহাকৈর এলাকায় মাজারের পাশের পুকুর থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পিবিআইয়ের সহযোগিতায় তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত হলে জানা যায় নিহত ব্যাক্তি নিখোঁজ হুমায়ন কবির। এরপর নিহতের ভাই সেলিম রেজা ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশিমপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন {মামলা নাম্বার ১২(২)২২}।
উপ-কমিশনার আরো বলেন, পরবর্তীতে প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত আলমগীর ও শামসুলকে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টুকু ও আল আমিনকে বরিশালের উজিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া রফিককে সদর থানা এলাকা থেকে পিবিআই গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ কর্মকর্তা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে আরও বলেন, ৯ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে হুমায়ুন অটোরিকশা নিয়ে মহানগরের সালনা ব্রিজের কাছে অবস্থানকালে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য ছদ্মবেশী ঝালমুড়ি বিক্রেতা আল-আমিনের কাছ থেকে ঝালমুড়ি কিনেন। এ সময় কৌশলে আল আমিন ঝালমুড়ির সাথে ঘুমের ওষুধ (লিকুইড) মিশিয়ে হুমায়ুনের কাছে বিক্রি করে। ঝালমুড়ি খেয়ে হুমায়ুন যাত্রী হিসেবে শামসুল ও টুকুকে নিয়ে অটোরিকশায় ওঠে। অন্যরা আলমগীরের সিএনজিতে উঠে ভিকটিমের অটোরিকশা অনুসরণ করতে থাকে। মহানগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কোনাবাড়ির ফ্লাইওভারের কাছে আসলে হুমায়ুন অচেতন হয়ে পড়েন। পরে শামসুল অটোরিকশার নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর কালিয়াকৈরের মৌচাক হয়ে লোহাকৈর মাজার রোডের নিকটে পৌঁছে তারা হুমায়ুনের টাকা ও মোবাইল ছিনতাই করে অটোরিকশা থেকে তাকে রাস্তার পাশে ফেলে অটোরিকশা নিয়ে জিরানী এলাকায় যায়। পরে অটোরিকশা রেখে রাত ১২ টার দিকে হুমায়ুনের অবস্থা দেখতে আলমগীরের সিএনজি করে আসামিরা লোহাকৈর মাজারের নিকট আসে। সেখানে হুময়ুনকে একটি চায়ের দোকানের সামনে সিগারেট খেতে দেখে। পরবর্তীতে ঝামেলা হতে পারে ভেবে চায়ের দোকান বন্ধ হওয়ার পর আসামিরা ভিকটিমকে ডেকে পুকুরঘাটে নিয়ে ধাক্কা মেরে পানিতে ফেলে পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, ছিনতাইকৃত অটোরিকশা, মোবাইল ফোন এবং ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত সিএনজি ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। আসামীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।



