সাবেক হাইকমিশনার খায়রুজ্জামানকে মুক্ত করে দিলো মালয়েশিয়া

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার মেজর (অব.) মোহাম্মদ খায়রুজ্জামানকে (৭০) মুক্তি দিয়েছে মালয়েশিয়া।

মুক্তি পাওয়ার পর তিনি স্ত্রীকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছেন বলে বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম ‘ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খায়রুজ্জামানের আইনজীবী জানিয়েছেন, ‘তার মুক্তিতে কোনো শর্ত আরোপ করা হয়নি। তিনি এখন পুরোপুরি মুক্ত।’ মুক্তির পর মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান।

এর আগে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর প্রদেশের আমপাং এলাকার বাসা থেকে খায়রুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে দেশটির অভিবাসন পুলিশ। তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে মঙ্গলবার দেশটির হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দেন।

একই সঙ্গে হাইকোর্টে খায়রুজ্জামানের পক্ষে করা আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ২০ মে তারিখ ধার্য করেন। এর আগে গত শুক্রবার খায়রুজ্জামানকে বাংলাদেশে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের একটি আদালত।

গ্রেপ্তারের পর খায়রুজ্জামানের আইনজীবীরা দাবি করেন, তাদের মক্কেল (খায়রুজ্জামান) একজন রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী। তিনি জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) কার্ডধারী। তিনি কোনো অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করেননি। তার বৈধ ভ্রমণ নথিপত্র আছে। তিনি মালয়েশিয়ায় কোনো কাজ করছিলেন না। তিনি বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তাই তাকে আটক বা গ্রেপ্তার করা বেআইনি। তাকে বহিষ্কার করার অধিকার মালয়েশিয়ার নেই।

এদিকে, প্যারিসভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটসের তথ্য অনুযায়ী, খায়রুজ্জামান জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার নিবন্ধিত শরণার্থী।

উল্লেখ্য, সাবেক সেনা কর্মকর্তা থেকে পরে সামরিক সরকারের আমলে প্রেষণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ পেয়ে কূটনীতিক হন খায়রুজ্জামান। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জেলে জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলার অন্যতম আসামি খায়রুজ্জামানকে চাকরিচ্যুতির পর গ্রেপ্তার করা হয়।

২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এলে খায়রুজ্জামান জামিনে মুক্তি পান। এরপর চাকরি ফিরে পেয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মহাপরিচালক পদে যোগ দেন তিনি। পরে ২০০৪ সালে জেলহত্যা মামলা থেকে খালাস পান খায়রুজ্জামান।

২০০৫ সালে তিনি মিয়ানমারে বাংলাদেশ দূতাবাসে নিয়োগ পান। পরে ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে মালয়েশিয়ায় তৎকালীন বাংলাদেশি হাইকমিশনার খায়রুজ্জামানকে দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই আদেশ অগ্রাহ্য করে তিনি মালয়েশিয়ায় থেকে যান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button