দুই প্রকৌশলীকে পেটালেন ঠিকাদার
গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : পটুয়াখালীতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দুই কর্মকর্তাকে প্রভাবশালী এক ঠিকাদার মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
রোববার (৭ মার্চ) দুপুরে দুমকী উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল (এলজিইডি) অধিদপ্তর কার্যালয়ে এ সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পটুয়াখালী এলজিইডি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মারধরের শিকার দুমকী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুস সালাম জানান, ২০১৬ সালে পটুয়াখালী মেসার্স পল্লী ট্রেডার্স এর মালিক গোলাম সরোয়ার বাদল ওরফে মেয়র বাদল দুমকী উপজেলার পাঙ্গাশিয়ার ব্রীজ নির্মাণ করেন। কাজ শেষ হলেও নির্মাণাধীন ব্রিজে নানা ত্রুটি থাকায় কাজের অনুকুলে বিল পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। এরপরেও ঠিকাদার বাদল শতভাগ বিল দাবি করে। তার অযৌক্তিক দাবির বিপরীতে আমরা আপত্তি দেই এবং উল্লেখিত প্রকল্পে যৌথ মেজরমেন্ট করে বাকি বিল পরিশোধ করা হবে বলে জানাই। এ ঘটনায় ঠিকাদার বাদল রাগান্বিত হয়ে রোববার অফিসে ঢুকে আমাকে চড়থাপ্পড় শুরু করেন।
উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ নাজিম উদ্দীন জানান, ঠিকাদার বাদল তার কক্ষে গিয়ে বিল নিয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী পটুয়াখালীর সাথে আলোচনা ও সমন্বয় করার পরামর্শ দেয়। এ সময় কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই বাদল চেয়ার ছুড়ে তার গায়ে মারে এবং বাম গালে চড়থাপ্পড় মারেন। একপর্যায়ে তার কোমরে থাকা পিস্তল খোজে ভয়-ভীতি দেখায়। ডাক-চিৎকারে উপজেলা পরিষদের অন্যান্য লোকজন এসে ঠিকাদারকে নিবৃত্ত করেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে।
বিষয়টি জানতে বেলা দেড়টার দিকে পটুয়াখালী নির্বাহী প্রকৌশলী এলজিইডি জিএম শাহাবুদ্দিন এর সাথে কথা বলতে তার মুঠোফোনে ফোন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, একটি জরুরী মিটিংয়ে আছি। পরে কথা হবে।
দুমকী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ হাওলাদার বলেন-ঘটনার সময় আমি অফিসে ছিলাম। মারধোরের ঘটনার পর এলজিইডির লোকজন আমাকে এসে বিষয়টি অবহিত করলেও আমি গিয়ে ঠিকাদার বাদলকে পায়নি। কিন্তু এঘটনাটি উপজেলা পরিষদের নয়, এটা জেলা অফিসের। তবুও অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাই। পাশাপাশি বিষয়টি সমাধানের জন্য উদ্যোগ নিচ্ছি।
দুমকী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল সালাম বলেন-আমি শুনেছি। কিন্তু কেউ অভিযোগ করেননি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল ইমরান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন-আমরা এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পস্তুুতি চলছে।
অভিযুক্ত গোলাম সরোয়ার বাদল বলেন- পুরোনো একটি বিল নিয়ে এলজিইডি টালবাহানা শুরু করে। বিল সংক্রান্ত বিষয়ে দুমকী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ মধ্যস্ততা করেন এবং বিল দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে দুমকী উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী আঃ সালাম ১০ লাখ টাকা দাবি করলে আমি আজ রোববার ধারদেনা করে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা সালামকে প্রদান করি। কিন্তু সালাম ওই টাকা হাতে নিয়ে বাকি টাকা দাবি করে বিল দিতে বেকে বসে। তখন আমি তার গায়ে হাত তুলতে বাধ্য হই।



