কাপাসিয়ায় ধর্ষণে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতার শ্যালকের বাড়ি থেকে ভুক্তভোগী ও নবজাতককে উদ্ধার

কাপাসিয়ায় ধর্ষণে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতার শ্যালকের বাড়ি থেকে ভুক্তভোগী ও নবজাতককে উদ্ধার

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা ও কাপাসিয়া উপজেলার কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাখাওয়াত হোসেনের শ্যালকের বাড়ি থেকে কিশোরী (১৫) ও তার নবজাতক কন্যাসন্তানকে উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (০৭ সেপ্টেম্বর) সকালে চেয়ারম্যানের দুই শ্যালক মো. আল মামুন ও মো. মাসুদের বাড়ি থেকে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গত ৩১ আগস্ট গাজীপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও অপহরণের অভিযোগে মামলা হয়। মামলাটি করেন ওই কিশোরীর বাবা। কিশোরীকে সাখাওয়াত হোসেনের ধর্ষণের কারণেই ওই নবজাতকের জন্ম হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়।

গাজীপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মাকছুদের রহমান বলেন, ‘আমরা অভিযুক্ত ব্যক্তির শ্যালকের বাড়ি থেকে ভিকটিমদের উদ্ধার করেছি। তাদের আদালতে পাঠানো হবে। এরপর আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলবে।’

অভিযুক্ত মো. সাখাওয়াত হোসেন কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কাপাসিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি। সম্প্রতি সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তোলে এক কিশোরী। এ–সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিওতে কিশোরী দাবি করে, সাখাওয়াত তাকে ধর্ষণ করেছেন এবং সেই ধর্ষণের ফলে সে কন্যাসন্তান প্রসব করেছে।

ধর্ষণের পাশাপাশি গত ২৯ আগস্ট কিশোরী ও নবজাতককে অপহরণ করা হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৬ আগস্ট নবজাতকটির জন্ম হয়।

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা উঠেপড়ে লেগেছে। তাঁর প্রতিপক্ষ হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র করছে। তিনি কাউকে ধর্ষণ করেননি।

গাজীপুর পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, মা ও শিশুকে উদ্ধার করে গাজীপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪ এর বিচারক জুবায়েরা নাসরিনের আদালতে নেওয়া হয়। সেখানে ওই কিশোরী ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করে জবানবন্দি দিয়েছে। পরে আদালত মা-নবজাতককে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিরাপদ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।

 

সূত্র: প্রথম আলো