নিজস্ব সংবাদদাতা : সাংবাদিক পরিচয়ে অনধিকার বলে বাসা-বাড়ি ও কলকারখানায় ঢুকে অবৈধ বা অননুমোদীত চুলা আছে মর্মে অভিযোগ এনে মোটা অংকের চাঁদা দাবী করা হয়। এমনি এক বাহিনীর আবির্ভাব ঘটেছে টঙ্গী-গাজীপুরে। এরা মোটর সাইকেলের বহর নিয়ে এলাকা দাপিয়ে বেড়ায়। চাঁদাবাজি কালে এই চক্রের ৪ সদস্যকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে দিয়েছে এলাকার অতিষ্ঠ জনতা।
বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) চাঁদাবাজির মামলায় এদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে পাঠিয়েছে জিএমপি টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন আউচপাড়া মোল্লা বাড়ী রোডের কফিল উদ্দিন মিয়ার ছেলে আশিকুর রহমান (৪২), টঙ্গী আউচপাড়া আলকাছ কমিশনারের বাড়ির ভাড়াটিয়া ও ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার আগলা গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে আমির হোসেন (৪৩), টঙ্গী পূর্ব থানাধীন দক্ষিণ আরিচপুর মসজিদ রোডের নুরুল ইসলামের ছেলে নাজমুল ইসলাম (৩৮), আউচ পাড়া মোল্লা বাড়ি রোডের হুমায়ুন কবীরের বাড়ির ভাড়াটিয়া ও শেরপুর জেলার শ্রীবর্ধী থানার সাতনীপাড়ার মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে জাফর আলী (৩৫)।

মামলার বাদী, পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, গ্রেফতারকৃত ও তাদের সহযোগীরা টঙ্গী ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন বাড়িওয়ার কাছে গিয়ে বাড়ির ব্যবহৃত গ্যাস লাইন অবৈধ বলে দাবি করেন এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের চাঁদা দাবী করেন। এদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। এরা সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে গিয়ে নিয়মিত মোটা অংকের মাসিক চাঁদাও দাবী করেন। এছাড়া কেউ বাসা-বাড়ি বা কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করার সময় রাজউকের প্ল্যান না থাকা বা অন্য কোনো অজুহাতে মোটা অংকের চাঁদা দাবী করে। এমনকি রাস্তার জন্য বা চারপাশে প্রয়োজনীয় জায়গা বাদ দিয়ে নির্মাণ কাজ হচ্ছে কিনা ফিতা ধরে তা মেপে দেখারও দুঃসাহস দেখায় এরা। ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতা এদের শেল্টার দেওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পান না।
গ্রেফতারকৃত ও তাদের পলাতক সহযোগীরা গত বুধবার বেলা সাড়ে ১২টায় টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন সাতাইশ মদিনা পাড়ায় বশির হাওলাদারের বসত বাড়িতে গিয়ে আবাসিক গ্যাস লাইনের সংযোগ অবৈধ বলে দাবি করেন এবং সংবাদ প্রকাশ ও ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে জেল জরিমানা ও সংযোগ বিচ্ছিন্নের হুমকি ধমকি দিতে থাকেন। এতে বাড়ির মালিক বশির ভীত সন্ত্রস্ত্র হয়ে পড়লে সংবাদ প্রকাশ না করার আশ্বাস দিয়ে তার কাছে ৮০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। সেখানে রফাদফা শেষে বাড়ির মালিক নগদ ১০ হাজার টাকা দেন এবং বাকি টাকা সন্ধ্যার পর দেওয়ার কথা ছিল। ইতিমধ্যে এরা চলে যাওয়ার পর ভুক্তভোগী ওই বাড়িওয়ালা প্রতিবেশীদের কাছে জানতে পারেন, সাংবাদিক পরিচয়ে একইভাবে ওই চাঁদাবাজরা ইতিপূর্বে ওই এলাকার গিয়াস উদ্দিন আল-মামুনের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা, মিজানের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা, প্রদীপ দাসের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা, আব্দুল মালেকের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা সহ এলাকার বিভিন্ন বাড়িওয়ালার কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেছে।
এদিকে ওই চাঁদাবাজরা বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় ৮০ হাজার টাকার অবশিষ্ট ৭০ হাজার টাকা চাঁদার জন্য বশির হাওলাদারের বাড়িতে উপস্থিত হয়। এসময় ওই বাড়ির মালিক ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আমজাদ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ধরণের ঘটনা এলাকায় অহরহ ঘটছে। এমন আরো কয়েকটি ঘটনা ইতিপূর্বে ঘটেছে। হাসান মামুন নামের কথিত এক সাংবাদিককে এলাকাবাসী ইতিপূর্বে হাতেনাতে আটক করে আমাকে ফোন দেয়। পরে তাকে আমার অফিসে নিয়ে আসতে বলি। এদের কারণে পেশাদার সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে- মন্তব্য করেন কাউন্সিলর আমজাদ।
টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.শাহ আলম বলেন, গ্রেফতারকৃত ৪ জনকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে আমির হোসেনের কাছে দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার ঢাকা বিভাগের ‘রিপোর্টার’ পদবীর আইডি কার্ড, নাজমুল ইসলামের কাছে প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার ‘রিপোর্টার’ পদবীর আইডি কার্ড, আশিকুর রহমানের কাছে সাপ্তাহিক মুক্ত বাংলা পত্রিকার ‘সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার’ পদবীর আইডি কার্ড এবং জাফর আলীর কাছে একই পত্রিকার ‘স্পেশাল করেসপন্ডেট’ পদবীর আইডি কার্ড পাওয়া গেছে। এসব আইডি কার্ড ভূয়া কিনা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। এদের পলাতক সহযোগীদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
#