কালীগঞ্জে গণপিটুনিতে ছিনতাইকারী নিহত
নিজস্ব সংবাদদাতা : কালীগঞ্জে পথ রোধ করে এক ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে নগদ টাকা, মোবাইল ও মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের পর গণপিটুনিতে এক ছিনতাইকারীর মৃত্যু হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ মে) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার পর তুমুলিয়া ইউনিয়নের বর্তুল এলাকায় ছিনতাই ও গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে।
নিহতের নাম দুলাল মিয়া (৪৫) ওরফে ভান্ডারি দুলাল। তিনি পাড়ারটেক এলাকার মৃত বিল্লাল মিয়ার ছেলে।
ছিনতাইয়ের শিকার ব্যবসায়ী রায়হান আকন্দ (২৪)। তিনি পার্শ্ববর্তী রুপগঞ্জ উপজেলার মধ্য জিন্দা এলাকার চেয়ারম্যান বাড়ির কুদ্দুস আকন্দর ছেলে। রায়হান ইট-বালু ব্যবসা করেন। ঘটনার সময় তার সঙ্গে ছিল একই এলাকার আব্দুস সামাদের ছেলে সাইদুল (২২)।
স্থানীয় সূত্র ও ছিনতাইয়ের শিকার রায়হান আকন্দের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে রায়হান তার এফ জেড মোটরসাইকেল নিয়ে এলাকার ছোট ভাই সাইদুলকে নিয়ে ভেকু ভাড়া নিতে সন্ধানে কালীগঞ্জের বালীগাঁও এলাকার একটি গ্যারেজে যায়। সে সময় গ্যারেজ বন্ধ থাকায় কিছু সময় অপেক্ষার পর তারা পূণরায় এলাকায় ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ফিরতি যাত্রা শুরু করে। পথে তাদের মোটরসাইকেল অনুসরণ করছিল অপর একটি মোটরসাইকেল। রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার পর বর্তুল এলাকায় (সাবেক এমপি ফজলুল হক মিলনের বাড়ির সংলগ্ন) নির্জন স্থানে পৌঁছালে তাদের পথ রোধ করে আগলা এলাকার মৃত সুরজ মাঝির ছেলে সোহেল মাঝি (৪৫) তার ছেলে শান্ত মাঝি (২৮) ও অজ্ঞাত একজন। সে সময় তাদের হাতে ছেন, লাঠি ও ইট ছিলো। তারা রায়হানকে তার নাম ধরে বলে তোর সঙ্গে কি আছে তা সব দে। রায়হান সে সময় নিজের পরিচয় দিয়ে বলে ভাই কি সমস্যা বলেন। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তেড়ে এগিয়ে আসে। এরমধ্যে অপর একটি মোটরসাইকেলে পুইনারটেক এলাকার মৃত ফিরোজ মিয়ার ছেলে সোহেল মিয়া (৩৫), পাড়ারটেক এলাকার ভান্ডারি দুলাল এবং অজ্ঞাত একজনসহ মোট তিনজন আসে। তাদের হাতেও হাতুড়ি, ছুরি ও লাঠি ছিল। পরে সকলে মিলে রায়হান ও তার ভাইকে ঘিরে ফেলে এবং রায়হানের মোবাইল ও সঙ্গে থাকা প্রায় তিন লাখ টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয় তারা। সে সময় রায়হানের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে থাকে। এমন সময় রায়হাকে আঘাত করার চেষ্টা করে ছিনতাইকারী। সে সময় রায়হান মোটরসাইকেল ফেলে দৌঁড়ে কিছুদূর গিয়ে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয় রায়হান ও তার ভাই। এরমধ্যে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হলে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে ভান্ডারি দুলালকে ধরে ফেলে জনতা। পরে তাকে গণপিটুনি দেয় এলাকাবাসী। এতে গুরুতর আহত হলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকায় রেফার্ড করেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে দুলালকে ঢাকা নেয়ার পথে পূর্বাচল এলাকায় গেলে তার মৃত্যু হয়।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, রাত ৩টা ১০ মিনিটে দুলালকে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় কয়েকজন হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। হাসপাতালে বাহক হিসেবে রায়হান এবং জুলফিকার আলীর নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে।
ছিনতাইয়ের শিকার রায়হান আকন্দ বলেন, ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আমি বাড়ির লোকজনকে ঘটনা জানাই। পরে তাদের পরামর্শে রাতেই আমি কালীগঞ্জ থানায় গিয়ে ঘটনার বিস্তারিত পুলিশকে বলি। সে সময় ডিউটি অফিসার আমাকে বলেন সকালে থানায় যাওয়ার জন্য। পরে বাড়ি চলে আসি। কিন্তু আমি হাসপাতালে যাইনি। তবে কি কারণে হাসপাতালে আমার নাম লেখা হয়েছে আমার জানা নেই।
তিনি আরো বলেন, আমার মোটরসাইকেল, মোবাইল এবং তিন লাখ টাকা এখনো পাইনি।
নিহতের স্বজন জুলফিকার আলী বলেন, রাতে মেম্বার মুজিবুর রহমান ও থানার এসআই সাইফুল ইসলাম ফোনে জানায় দুলাল অসুস্থ অবস্থায় কালীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। পরে হাসপাতালে গিয়ে দুলালকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পাই। সে সময় চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দেন। এর মধ্যে দেখি অ্যাম্বুলেন্স এসে হাসপাতালের গেইটে অপেক্ষায় রয়েছে। পরে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। কিন্তু আমি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাইনি। তবে হাসপাতালে থেকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার সময় আমি সঙ্গে ছিলাম।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কালীগঞ্জ থানায় দায়িত্ব পালন করা ডিউটি অফিসার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আঃ আউয়াল বলেন, মধ্য রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহবুব ফোনে জানায় এলাকায় একজনকে মারধর করে ফেলে রেখেছে স্থানীয়রা। সে সময় তাকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে আহতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে। এছাড়াও রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এক যুবক এসে বলে তাকে পথ রোধ করে মারধর করে মোটরসাইকেল, মোবাইল ও টাকা রেখে দিয়েছে কয়েকজন দুষ্কৃতকারীরা। সে সময় থানায় কম্পিউটার অপারেটর না থাকায় অভিযোগ লেখার জন্য তাকে সকালে আসতে বলা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, রাতে মেম্বার এবং ওই যুবক কেউই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য বলেন নি।
কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম (১) বলেন, রাতে সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে দুলালকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া গেছে। সে সময় চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন। এরপর দুলালের স্বজনদের মোবাইলে খবর দেয়া হয়। পরে তার স্বজনরা এসে অ্যাম্বুলেন্সে করে দুলালকে ঢাকা নিয়ে যাওয়া পথে তার মৃত্যু হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মোঃ আমিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর সকালে নিহতের বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।



