কালীগঞ্জে এবিএল কোম্পানির নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর, থানায় অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা : কালীগঞ্জের খলাপাড়া এলাকায় অবস্থিত এমিগো বাংলাদেশ লিমিটেডের (এবিএল) নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এরিয়া জোন কমান্ডার  মোঃ সাথিউল ইসলামকে (৩০) মারধর করে নিরাপত্তাকর্মীদের বেতনের ৩৭ হাজার ৩শ টাকা ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (২১ মে) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের মাধ্যমে অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী ও বাদী এমিগো বাংলাদেশ লিমিটেডের (এবিএল) নিরাপত্তা বিভাগের এরিয়া জোন কমান্ডার সাথিউল ইসলাম। তিনি লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ থানার দক্ষিণ গোপাল রায় এলাকার অকিউল ইসলামের ছেলে।

অভিযুক্তরা হলো, খলাপাড়া এলাকার বাদলের ছেলে মোঃ হৃদয় (৩৭), জাকির হোসেনের ছেলে অন্তর (২০), মৃত মোসলেহ উদ্দিন সরদারের ছেলে মোঃ সামসুল সরদার (৩০) এবং জয়নাল
আবেদীনের ছেলে নাইম (২৪)।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সাথিউল ইসলাম প্রাইভেট নিরাপত্তা সংস্থা ‘এলিট ফোর্স সিকিউরিটি সার্ভিস লিঃ’ এর অধীনে এমিগো বাংলাদেশ লিমিটেডের এরিয়া জোন কমান্ডার হিসাবে প্রায় ০৫ বৎসর যাবৎ নিয়োজিত রয়েছেন। কোম্পানির নিরাপত্তাকর্মী আইয়ুব প্রায় ১০/১২ দিন কর্মস্থলে উপস্থিত না হওয়ায় সাথিউল ইসলাম মোবাইল ফোনে এর কারণ জানতে চাইলে সে জানায় তার বাড়িতে সমস্যা থাকায় তিনি কাজে আসতে পারবে না। সে সময় আইয়ুবকে জানানো হয় ডিউটি না করলে কোম্পানির নিয়ম অনুসারে তার বেতনের টাকা কাটা হবে। পরবর্তীতে আইয়ুব গত ১২ মে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে স্থানীয় জনৈক এক নেতার অফিসে (এবিএল কোম্পানির ২নং গেটের সামনে) সাথিউলকে যেতে বলে। ওই অফিসে গিয়ে সাথিউল দেখেন এলাকার স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বসে রয়েছেন। সে সময় তারা ধমকের সুরে সাথিউলকে বলে আইয়ুবের বেতনের টাকা দিয়ে দিতে। পরে আইয়ুবকে অব্যাহতি পত্র জমা দিয়ে বেতনের টাকা নিয়ে যেতে বলে সাথিউল ইসলাম।

এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৪মে  বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ০১৯৬৯০৮০৫২৪ এই নম্বর থেকে সাথিউলের মোবাইলে কল করে বলা হয় নরসিংদীর রায়পুরা এলাকার একজনকে এলিট ফোর্সের নিরাপত্তাকর্মী হিসাবে এবিএল কোম্পানিতে চাকরি দিতে হবে। সে সময় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে সাথিউল জানায় চাকরি প্রত্যাশীর কাগজপত্র এবিএল কোম্পানীর ইনচার্জের কাছে জমা দিতে। এরপর ওই মোবাইল নম্বর থেকে একাধিক বার কল করা হয় সাথিউলকে। পরবর্তীতে সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার সময় পুনরায় ফোন করলে তাদের এবিএল কোম্পানীর ভেতরে আসতে বলে সাথিউল ইসলাম। কিন্তু তারা সাথিউলকে অনুরোধ করে এবিএল কোম্পানির ২নং গেটের সামনে জনৈক শাহীনের চায়ের দোকানে যেতে। সে সময় সাথিউল শাহীনের চায়ের দোকানে গিয়ে দেখে এর আগে গত ১২মে আইয়ুবের বেতনের টাকার জন্য যেসব লোক তাকে ধমক দিয়েছেন তারাই ওই দোকানে অবস্থান করছে। সে সময় সাথিউল ওই স্থান থেকে চলে আসতে চাইলে অভিযুক্ত হৃদয়, অন্তর, সামসুল সরদার ও নাইমসহ অজ্ঞাত আরো ৩/৪ জন মিলে তাকে ডেকে নিয়ে দোকানের ভেতরে বসতে বলে। পরে তারা বলে নাইমকে এবিএল কোম্পানীতে সিকিউরিটি পদে চাকরি দিতে হবে। সে সময় সাথিউল তাদের জানায় কোম্পানির নিয়মানুসারে স্থানীয় কোন বাসিন্দাকে চাকরি দেওয়া হয় না। সে সময় তারা বলে নাইমের নাম-ঠিকানা নরসিংদীর রায়পুরা এলাকার। এতে চাকরি দেয়া সম্ভব নয় বলে দোকান থেকে বের হতে চাইলে পেছন থেকে সাথিউলের শার্টের কলার ধরে তাকে দোকানের ভেতরে নিয়ে পেটে সুইচ গিয়ার চাকু ধরে হুমকি দিয়ে হৃদয় বলে নাইমকে চাকরি না দিলে জীবনে শেষ করে দেয়া হবে। পরে অভিযুক্তরা সাথিউলকে জোরপূর্বক একটি অজ্ঞাত অটো রিক্সায় উঠিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীর পাশে মাঝি বাড়ীর ঘাট নামক স্থানে নিয়ে গিয়ে এলোপাথাড়ি মারপিট করে। সে সাথিউলের সঙ্গে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের বেতনের ৩৭ হাজার ৩শ টাকা নিয়া নেয় হৃদয়। পরে ওই টাকা থেকে ২ হাজার টাকা অন্তরকে দেয়া হয় ইয়াবা ট্যাবলেট ও গাঁজা আনার জন্য। এর প্রায় ১০/১৫ মিনিট পরে অন্তর ইয়াবা ট্যাবলেট ও গাঁজা এনে সাথিউলের সামনে রাখে এবং ইয়াবা ট্যাবলেট ও গাঁজা সাথিউলের সামনে রেখে মোবাইলে ছবি তুলতে থাকে। এর প্রতিবাদ করলে অজ্ঞাত কয়েকজন তাদের হাতে থাকা লোহার রড ও লাঠিসোঠা দিয়ে সাথিউলকে এলোপাথারী মারধর করতে থাকে এবং তাকে হুমকি দেয়। এছাড়াও বলে এবিএল কোম্পানিতে চাকরি করিতে হলে প্রতি মাসে তাদেরকে ১ থেকে দেড় লাখ টাকা দিতে হবে। নয়তো তাদের মোবাইলে ধারণ করা ছবি ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হবে। প্রয়োজনে জীবনে শেষ করে লাশ নদীর পানিতে ভাসিয়ে দিবে বলেও হুমকি দেয় এবং তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

এমিগ্রো বাংলাদেশ লিঃ-এর সহকারী ব্যবস্থাপক কাজী আনিসুল হক নয়ন, নিরাপত্তাকর্মীর উপরে হামলার ঘটনাস্থল আমাদের প্রতিষ্ঠানের বাহিরে ঘটছে। এ বিষয়ে আমরা অবগত হওয়ার পর ‘এলিট ফোর্স সিকিউরিটি সার্ভিস লিঃ’ এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button