বদলি আতঙ্ক প্রশাসনে!

বদলি আতঙ্ক প্রশাসনে!

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : ভোটের আগে দেশের সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ওসিদের বদলির নির্দেশের পর শনিবার দুই জেলা প্রশাসককে বদলি করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে মাঠ প্রশাসনে আরও বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে বলে জানা গেছে। হঠাৎ রদবদলে মাঠ প্রশাসনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সুবিধামতো জায়গায় বদলির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীদের কাছে ধরনা দিতে শুরু করেছেন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা।

হঠাৎ করে ওসি ও ইউএনওদের বদলির সিদ্ধান্তে ভাবনায় পড়েছেন কোনো কোনো সংসদ সদস্য প্রার্থী। তাদের কেউ কেউ মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তাদের মাথায় হাত পড়েছে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, মাঠপর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতে ওসি-ইউএনওদের বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ কারণে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে না। এ ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া স্বতন্ত্রসহ সব প্রার্থীর নিরাপত্তায় ব্যবস্থা নিচ্ছে ইসি।

এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে দুই জেলায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে ময়মনসিংহের ডিসি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে উপসচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে। সুনামগঞ্জের ডিসি দিদার আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরীকে ময়মনসিংহের নতুন ডিসি করা হয়েছে। আর জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে সংযুক্ত উপসচিব মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরীকে সুনামগঞ্জের ডিসি করা হয়েছে। তার আগে গত বৃহস্পতিবার দেশের সব ইউএনও ও ওসিদের বদলি করার সিদ্ধান্তের কথা জানায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

একাধিক থানার ওসি জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের একটি ছক কষে তারা মাঠে কাজ শুরু করেছিলেন। এখন অন্য থানায় গেলে আবার নতুন করে পরিকল্পনা করে মাঠে নামতে হবে। পছন্দমতো থানার দায়িত্ব পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। কিছু ওসিকে থানা থেকে অন্য জায়গাও বদলি করা হতে পারে। সব মিলিয়ে মাঠ প্রশাসনের এই কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ওসিসহ প্রশাসনের ব্যাপক রদবদল করা হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ও ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন সামনে রেখে প্রশাসনে এ ধরনের রদবদল করা হয়নি। এবার মাঠ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের কমিশন। এ ছাড়া নির্বাচনে যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাদের বদলি এবং শাস্তির মুখোমুখি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

বাংলাদেশ কংগ্রেসের ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এমএ মুয়ীদ হোসেন আরিফ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ইউএনও ও ওসিদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন সুবিধাভোগী নেতাদের একটি যোগসাজশ থাকে। মাঠ প্রশাসনের এই কর্মকর্তাদের বদলির ফলে নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি হওয়ার একটি ধাপ পার হলো। আমরা একটাকে সাধুবাদ জানাই।

আগামী ৭ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে ইসি। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল গত ৩০ নভেম্বর, বাছাই ১-৪ ডিসেম্বর, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল ও শুনানি ৬-১৫ ডিসেম্বর এবং ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে।

 

সূত্র: আমাদের সময়