নিজস্ব প্রতিনিধি : কালীগঞ্জে প্রতিপক্ষের হামলায় তৌহিদুল ইসলাম রিমন (৩২) নামে দুর্ধর্ষ এক সন্ত্রাসীর মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (২৫ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের খঞ্জনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
নিহত তৌহিদুল ইসলাম রিমন ভাদগাতী এলাকার সাইদুল ইসলাম ওরফে মোসেল উদ্দিন মাষ্টারের ছেলে। তার নামে হত্যা, অস্ত্র, ছিনতাই, মাদকসহ অন্ততঃ ৬টি মামলা রয়েছে।
অভিযুক্তরা হলো খঞ্জনা এলাকার আঃ রহমানের ছেলে আব্দুল সাত্তার (৩৫) ও আল আমিন। এছাড়াও তাদের সহযোগী হিসেবে ছিলো অজ্ঞাত আরো ১০-১৫ জন।
স্থানীয় সূত্র ও রিমনের স্বজনরা জানায়, রোববার বিকেলে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী রিমন অটো রিকশায় নিয়ে করে খঞ্জনা এলাকায় আসে। সে সময় অভিযুক্ত সাত্তারের নেতৃত্বে তার ভাই আল আমিনসহ ১০-১৫ জন মিলে রিমনকে আটকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। একপর্যায়ে তারা রিমনকে টেনে হেঁচড়ে অটোরিকশায় তুলে পার্শ্ববর্তী কুমারটেক তালতলা এলাকায় নিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে সড়কের পাশে ফেলে রেখে চলে যায়।

রিমনের স্বজনরা জানায়, ফয়সাল হত্যা মামলায় রিমনের সঙ্গে সাত্তারও আসামি। ওই মামলার রিমনের কারণে সাত্তারকে আসামি করা হয়েছে এই অভিযোগ তুলে রিমনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছিল শুরু থেকেই। কিছুদিন আগে রিমন কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় এসে পূণরায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে। এতে ছাত্তারও তার প্রতি ক্ষিপ্ত ছিলো। এছাড়াও পূর্বের জের থাকায় রোববার বিকেলে রিমনকে একা পেয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে ছাত্তার ও তার ভাই আল আমিনের নেতৃত্বে অজ্ঞাত আরোও ১০-১৫ জন। রিমনের নামে হত্যা, অস্ত্র, ছিনতাই, মাদকসহ অন্ততঃ ৬টি মামলা রয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক রেজীনা আফরিন বলেন, রাত সাড়ে ৭টার দিকে অজ্ঞাত কেউ রক্তাক্ত অবস্থায় রিমন নামে এক যুবককে জরুরি বিভাগের বাহিরে ফেলে রেখে চলে যায়। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধারের পর পরীক্ষা করে মৃত্যু ঘোষণা করা হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হাসান বলেন, রাত পৌণে ৮টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের মাথায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য: ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই রাতে কালীগঞ্জের সাবেক এমপি মোখলেছুর রহমান জিতু মিয়ার ছেলে হাবিবুর রহমান ফয়সালকে (৩২) বুকে গুলি করে হত্যা করে তৌহিদুল ইসলাম রিমন। ওই ঘটনায় নিহতদের বোন মাসুমা সুলতানা মুক্তা বাদী হয়ে রিমনকে প্রধান করে ৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে {মামলা নং- ০১(০৮)১৭}। ওই মামলার ৫ নাম্বার আসামি আব্দুল সাত্তার।
আরো জানতে…….
এমপি-পুত্র হত্যা মামলার পূর্ণতদন্ত শুরু, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পিবিআই
এমপি-পুত্র হত্যা মামলা পূর্ণতদন্তের নির্দেশ: দায়িত্বে পিবিআই
এমপি-পুত্র হত্যায় জালিয়াতির অভিযোগ কালীগঞ্জের ওসি এবং তদন্ত কর্মকর্তা’র বিরুদ্ধে!
সাবেক এমপি পুত্র হত্যা মামলার বাদী নিরাপত্তাহীনতায় : থানায় সাধারণ ডায়েরী
কালীগঞ্জের সাবেক এমপি পুত্র হত্যা মামলার বাদিকে মোবাইলে হুমকি