গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : চাকরি জাতীয়করণসহ ৪ দফা দাবিতে সচিবালয় ঘেরাও করে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছেন আনসার সদস্যরা।
রোববার (২৫ আগস্ট) ঘেরাও কর্মসূচির একপর্যায়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিক্ষুব্ধ আনসার সদস্যদের একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ের ভেতরে গিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন।
এ বৈঠকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি, র্যাবের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যোগ দেন। রাত ১০টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা সচিবালয়ে এলে আনসার সদস্যদের মারধরে কয়েকজন ছাত্র আহত হন। এরপর ছাত্র ও আনসারদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে ৪টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং অন্তত ৩০ জন আহত হয়। একপর্যায়ে আনসার সদস্যদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় ছাত্র-পুলিশ। এরপর ছাত্ররা আনসার সদস্যদের ওই স্থান থেকে সারিবদ্ধভাবে চলে যাওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করেন। এ ঘটনায় রবিবার বেলা ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ১০ ঘণ্টা সচিবালয় অবরুদ্ধ থাকে।
এর আগে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম তাদের ফেসবুক পোস্টে ছাত্রদের আটক রাখার খবর পোস্ট করলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জমা হতে থাকেন। পরে রাত ৯টায় তারা সচিবালয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মোতাসিম বিল্লাহ মাহফুজ এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, উপদেষ্টা নাহিদ ভাইসহ হাসনাত ও সার্জিস ভাইকে সচিবালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে বিপথগামী কিছু আনসার সদস্য ও ছাত্রলীগের প্রেতাত্মারা। আমরা সবাই মিলে সচিবালয়ে মার্চ করে তাদেরকে মুক্ত করে নিয়ে আসব। সবাই যোগ দিন, এ বিষয় সবাইকে অবগত করুন, অতীব জরুরি।
চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করছেন আনসার সদস্যরা। আশ্বাস দেওয়ার পরও চাকরি জাতীয়করণ করা হয়নি।
গত ২৪ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আনসারে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা সহ্য করা হবে না। দাবি আদায়ের নামে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আনসারদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেওয়া হবে। আনসার-ভিডিপি একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী। ঐতিহ্যবাহী এ সুশৃঙ্খল বাহিনীর সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এমন কোনো কাজ কারও করা উচিত হবে না।
সব সাধারণ আনসার সদস্যকে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে গিয়ে কাজে যোগদানের আহ্বান জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের গোচরীভূত হয়েছে যে, মুষ্টিমেয় কয়েকজন উসকানিদাতা এই সুশৃঙ্খল বাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সরকার প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না।