গাজা থেকে ১০ লাখ ফিলিস্তিনিকে লিবিয়ায় পুনর্বাসনের পরিকল্পনা ট্রাম্পের

গাজা থেকে ১০ লাখ ফিলিস্তিনিকে লিবিয়ায় পুনর্বাসনের পরিকল্পনা ট্রাম্পের

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ট্রাম্প প্রশাসন গাজা উপত্যকা থেকে ১০ লাখ পর্যন্ত ফিলিস্তিনি নাগরিককে স্থায়ীভাবে লিবিয়ায় স্থানান্তরের একটি উচ্চপর্যায়ের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে দাবি করেছে এনবিসি নিউজ। পরিকল্পনার বিস্তারিত এখনও অস্পষ্ট হলেও, এটি এতটাই অগ্রসর যে লিবীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা পর্যন্ত হয়েছে।

তিনটি সূত্র জানায়, ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসনের বিনিময়ে লিবিয়ার জন্য আটকে রাখা কয়েক বিলিয়ন ডলার মুক্ত করে দেওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে। যদিও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, ইসরায়েলকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

এই প্রতিবেদনের পর মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট দাবি করেছে, “এই ধরনের কোনো পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত নয় এবং এমন কোনো আলোচনা হয়নি।”

হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাসেম নাইম বলেন, “ফিলিস্তিনিরা তাদের মাতৃভূমির সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত এবং জীবন দিয়ে হলেও তারা তাদের জমি রক্ষা করবে।” তিনি আরও বলেন, “ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র তাদেরই।”

দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়া গৃহযুদ্ধ ও রাজনৈতিক বিভাজনে জর্জরিত। দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার – পশ্চিমে আবদুল হামিদ দেবেইবা ও পূর্বে খলিফা হাফতারের নেতৃত্বে – সক্রিয় সংঘাতে জড়িত। লিবিয়া নিজের জনগণের সেবাতেই হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে আরও ১০ লাখ মানুষের চাপ বহন করা হবে বিশাল বোঝা।

এতো বিপুলসংখ্যক মানুষের স্থানান্তর কৌশলগত, আর্থিক ও লজিস্টিক্যাল দিক থেকে অত্যন্ত কঠিন। গাজায় বিমানবন্দর না থাকায় প্রথমেই সমস্যার মুখে পড়তে হবে। কায়রো হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে লিবিয়ার বেনগাজিতে পৌঁছাতে হবে। সাগরপথ, স্থলপথ বা আকাশপথে হাজারো ট্রিপ লাগবে এই জনসংখ্যা স্থানান্তরে।

ট্রাম্প গাজাকে মধ্যপ্রাচ্যের “রিভিয়েরা” হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন। তার মতে, সেখানে শান্তিপূর্ণ জীবন অসম্ভব, তাই ফিলিস্তিনিদের অন্য কোথাও স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন করাই একমাত্র সমাধান।

এই ঘোষণা মার্কিন কংগ্রেস, আরব মিত্ররাষ্ট্র ও এমনকি ট্রাম্প প্রশাসনের অনেক শীর্ষ কর্মকর্তাকেও বিস্মিত করেছে। সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন, “এটি বহু স্তরে সমস্যাযুক্ত।”

বাশার আল-আসাদের পতনের পর নতুন নেতৃত্বাধীন সিরিয়াও ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসনের জন্য বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসন সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নিয়েছে এবং দেশটির নতুন নেতা আহমাদ আল-শারার সঙ্গে ট্রাম্প সাক্ষাৎ করেছেন।

এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এখনও অনিশ্চিত, তবে এর নেপথ্যের কূটনৈতিক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়াগুলো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যেমন কঠিন, তেমনি মানবাধিকার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকিও বয়ে আনতে পারে।