বাংলাদেশকে বাইপাস করে সমুদ্রপথে কলকাতার সঙ্গে যুক্ত হবে উত্তর-পূর্বাঞ্চল

বাংলাদেশকে বাইপাস করে সমুদ্রপথে কলকাতার সঙ্গে যুক্ত হবে উত্তর-পূর্বাঞ্চল

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রথম হাই-স্পিড করিডর প্রকল্প হিসেবে ১৬৬.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের একটি মহাসড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে, যা শিলং (মেঘালয়) এর মাউলিংখুং থেকে সিলচর (আসাম) এর পাঞ্চগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এই মহাসড়ক কলকাতার সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি নতুন সমুদ্রপথে সংযোগের অংশ হবে, যেখানে বাংলাদেশকে এড়িয়ে যাওয়া হবে।

প্রকল্পের বৈশিষ্ট্য ও কৌশলগত গুরুত্ব

এই প্রকল্পকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য একটি বিকল্প বাণিজ্যিক ও কৌশলগত করিডর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এটি মায়ানমারের কালাদান মাল্টি-মডাল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্রকল্পের সম্প্রসারণ হিসেবে কাজ করবে। উক্ত প্রকল্পের মাধ্যমে কলকাতা বন্দর থেকে মায়ানমারের সিত্তই বন্দর, সেখান থেকে পলেটওয়া এবং পরে জোরিনপুই হয়ে মিজোরাম পর্যন্ত মালবাহী জাহাজ চলাচল সম্ভব হবে।

এছাড়া শিলং-সিলচর মহাসড়কটি মিজোরাম, ত্রিপুরা, মণিপুর এবং আসামের বরাক উপত্যকার জন্য একটি প্রধান প্রবেশদ্বার হয়ে উঠবে। এতে ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

এই প্রকল্পটি এমন এক সময় ঘোষণা করা হলো, যখন বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান মোহাম্মদ ইউনুস বেইজিংয়ে এক বক্তৃতায় বলেন, উত্তর-পূর্ব ভারত ‘ল্যান্ডলকড’ এবং এই অঞ্চলের জন্য “বাংলাদেশই একমাত্র সমুদ্রগার্ডিয়ান”। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইউনুসকে জানান, “উস্কানিমূলক বক্তব্য এড়িয়ে চলাই শ্রেয়”।

প্রযুক্তি ও নির্মাণ পরিকল্পনা

প্রকল্পটির নির্মাণে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে:

ল্যান্ডস্লাইড শনাক্তে LiDAR সার্ভে ও স্লোপ স্ট্যাবিলাইজেশন, ভূকম্প পর্যবেক্ষণে Geophones, মাটির গতি নির্ণয়ে Inclinometers, বৃষ্টিপাত পরিমাপে Rain Gauge, জলচাপ পরিমাপে Piezometers।

ভূমি ধস রোধে রক অ্যাঙ্কর, হাই স্ট্রেংথ ওয়্যার মেশ প্যানেল ও প্রটেকশন ওয়াল

এই মহাসড়কে ১৯টি বড় সেতু, ১৫৩টি ছোট সেতু, ৩২৬টি কালভার্ট, ২২টি আন্ডারপাস, ২৬টি ওভারপাস, ৮টি সীমিত উচ্চতার সাবওয়ে এবং ৩৪টি ভায়াডাক্ট থাকবে।

ব্যয় ও সময়সীমা

এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২২,৮৬৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৪৪.৮ কিমি পড়বে মেঘালয়ে এবং ২২ কিমি আসামে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে যাত্রার সময় ৮.৫ ঘণ্টা থেকে কমে মাত্র ৫ ঘণ্টা হবে।

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে Hybrid Annuity Mode (HAM)-এ, যা একটি আধা-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (PPP) মডেল।

বাংলাদেশের উপর নির্ভরতা কমাতে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ভারতের মূল ভূখণ্ডের বিকল্প সংযোগ গড়ে তুলতেই এই প্রকল্প। এটি শুধু কৌশলগতভাবে নয়, অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিক থেকেও এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস