নিজস্ব সংবাদদাতা : কালীগঞ্জে সরকার উৎখাতের গোপন বৈঠক করে পরিকল্পিতভাবে নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টের নিসর্গ রিসোর্টে’ পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা।
‘গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টে’র চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা ট্রাস্টি হচ্ছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বুধবার (২৮ মে) এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা দায়ের হয়েছে।
মামলার বাদী নিসর্গ রিসোর্টের ডিউটি অফিসার (অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য) আব্দুল ওয়াদুদ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের কুচলিবাড়ি এলাকায় অবস্থিত গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টে’র নিসর্গ রিসোর্টে সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ শোনেন কর্তব্যরতরা। এরপর ভোরে আবারো একটি বোমা বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের ফলে আগুনের সূত্রপাত হলে তাৎক্ষণিকভাবে তা নিয়ন্ত্রণে আনেন কর্তব্যরত আনসার সদস্য সাফায়েত, আব্দুল আজিজ, আল-আমিন, রাকিব ও আলমগীর কবির। ঘটনাস্থল থেকে সুতলি দিয়ে বাঁধা তরল পদার্থ ভর্তি দুটি কাঁচের বোতল, ভাঙা কাঁচ ও একটি প্লাস্টিকের জারিকেন উদ্ধার করা হয়। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, সোমবার রাতে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা রিসোর্টের পূর্ব পাশের কাঁঠাল বাগানে গোপন বৈঠক করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও সরকার উৎখাতের উদ্দেশ্যেই তারা ওই বৈঠক করে এবং পরিকল্পিতভাবে নিসর্গ রিসোর্টের সীমানা প্রাচীরের ভেতরে পেট্রোল বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়।
মামলার বাদী আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, “সোমবার দিবাগত রাত ২ টার দিকে প্রথমে একটি পেট্রোল বোমা রিসোর্টের পূর্ব দিকে বিস্ফোরিত হয়। এরপর ভোররাতে আরেকটি বোমা এসে রিসোর্টের একটি দোতলা ভবনের লবিতে বিস্ফোরিত হয়। দুটি বিস্ফোরণেই আগুন লাগে, তবে তাৎক্ষণিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।”
তিনি আরো বলেন, মঙ্গলবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনা বুধবার মামলা দায়ের করা হয় {মামলা নং ২০(৫)২৫}।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিলন মিয়া বলেন, “তদন্ত চলমান রয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”