পাকিস্তানে কারাগার থেকে পালিয়েছে দুই শতাধিক কয়েদি

পাকিস্তানে কারাগার থেকে পালিয়েছে দুই শতাধিক কয়েদি

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর করাচির একটি কারাগার থেকে সোমবার গভীর রাতে দুই শতাধিক কয়েদি পালিয়ে গেছে। ভূমিকম্পের পর আতঙ্কিত হয়ে কারাকর্তৃপক্ষ কয়েদিদের বাইরে বের হতে দিলে তারা পাহারাদারদের ওপর চড়াও হয়ে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা ও পুলিশ। রয়টার্স

ঘটনাটি ঘটে করাচির মালির জেলখানায়, যেখানে প্রায় ৬,০০০ বন্দি রয়েছে। প্রাদেশিক আইনমন্ত্রী জিয়াউল হাসান লাঞ্জার জানান, রাত ১২টার কিছু আগে ভূমিকম্প অনুভূত হলে কয়েদিদের প্রাঙ্গণে বের হতে দেওয়া হয়। এরপর তারা বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে।

প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ জানান, পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে প্রায় ৮০ জনকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। বন্দিদের বেশিরভাগই মাদকাসক্ত এবং তারা ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

জেল সুপারিনটেনডেন্ট আরশাদ শাহ বলেন, রাতে ২৮ জন গার্ড ডিউটিতে ছিলেন। “৬,০০০ বন্দির ভেতর মাত্র কিছু কয়েদি পালাতে সক্ষম হয়েছে,” বলেন তিনি। তবে তিনি স্বীকার করেন, কারাগারে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না।

পুলিশ জানায়, বন্দিরা গার্ডদের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেয় এবং গেট ভেঙে পালিয়ে যায়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়। এতে অন্তত একজন কয়েদি নিহত ও তিনজন গার্ড আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শী বুখশ, যিনি জেলের বিপরীত দিকে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের নিরাপত্তারক্ষী, রয়টার্সকে বলেন, “আমি অনেকক্ষণ গুলি চলার শব্দ শুনি। তারপর দেখি বন্দিরা দিকবিদিক ছুটে পালাচ্ছে।”

পরে কিছু বন্দি তার কমপ্লেক্সে ঢুকে পড়ে, যাদের পুলিশ ধরে নিয়ে যায় বলে জানান তিনি।

ঘটনার পর মঙ্গলবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদক জেল পরিদর্শন করেন। সেখানে ভাঙা কাঁচ, ক্ষতিগ্রস্ত ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি এবং তছনছ করা বন্দিদের সাক্ষাৎ কক্ষ দেখতে পাওয়া যায়। কারাগারের বাইরে স্বজনদের উদ্বিগ্ন ভিড়ও লক্ষ্য করা গেছে।

প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ এ ধরনের নিরাপত্তা ত্রুটির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ছোটখাটো অপরাধের মামলা এখন বড় অপরাধ, এমনকি সন্ত্রাসবাদের মামলায় রূপ নিতে পারে