বান্ধবী নিয়ে ছেলের বিলাসী ভ্রমণ, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

বান্ধবী নিয়ে ছেলের বিলাসী ভ্রমণ, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ছেলের বিলাসবহুল ভ্রমণের ছবি ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক জনরোষ এবং দুর্নীতির অভিযোগের মুখে মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী লুভসাননামস্রাইন ওয়ুন-এরদেনে পদত্যাগ করেছেন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে ওয়ুন-এরদেনের ছেলেকে তার বান্ধবীর সঙ্গে বিদেশ সফরে দামি ডিওর ব্যাগ ও শপিং ব্যাগসহ দেখা যায়। এক ছবিতে বান্ধবী লিখেছেন, “Happy birthday to me”। আরেকটি ছবিতে জুটি দু’জনকে সুইমিং পুলে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়।

এই ছবি ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয়। বিক্ষোভকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন—প্রধানমন্ত্রীর পরিবার কীভাবে এত বিলাসবহুল জীবনযাপন করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইতোমধ্যে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা তার পরিবারের আর্থিক লেনদেন নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

পদত্যাগ দাবিতে রাজধানী উলানবাটরের সুখবাটার স্কয়ারে সমবেত মানুষ। 

সোমবার পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত গোপন আস্থা ভোটে ৮৮ জন এমপির মধ্যে ৪৪ জন ওয়ুন-এরদেনের পক্ষে ভোট দিলেও, ৩৮ জন বিপক্ষে ভোট দেন। তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টিকে থাকতে হলে ১২৬ সদস্যের পার্লামেন্টে অন্তত ৬৪টি ভোট প্রয়োজন ছিল।

ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর ওয়ুন-এরদেনে বলেন, “মহামারী, যুদ্ধ ও শুল্কের সময়ে দেশ ও জনগণের পাশে থাকার সুযোগ পেয়েছি, এটা ছিল আমার জন্য গর্বের বিষয়।”

এর আগে টানা দুই সপ্তাহ ধরে শত শত মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, রাস্তায় নেমে তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করেন। যদিও ওয়ুন-এরদেনে দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এটি তার বিরুদ্ধে “কুচক্রী smear campaign”।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল-এর মতে, ওয়ুন-এরদেনে ক্ষমতায় আসার পর মঙ্গোলিয়ায় দুর্নীতির চিত্র আরও খারাপ হয়েছে। ২০২৪ সালে দেশটি দুর্নীতির সূচকে ১৮০ দেশের মধ্যে ১১৪তম স্থানে ছিল।

প্রাক্তন সোভিয়েত শাসিত মঙ্গোলিয়া ১৯৯০-এর দশকে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু দেশটিতে দুর্নীতি এখনো একটি বড় সমস্যা। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে মঙ্গোলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী সুখবাতার বাটবোল্ডের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কে চুরি করা খনির অর্থে কেনা অ্যাপার্টমেন্ট জব্দ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। যদিও তিনিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সম্প্রতি মঙ্গোলিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে “তৃতীয় প্রতিবেশী নীতি” অনুসরণ করছে। তবে অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি দেশটির ভাবমূর্তিকে ক্রমেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

সূত্র: বিবিসি