গাজীপুরের ২৪০ ‘রাজনৈতিক মামলা’ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত

গাজীপুরের ২৪০ ‘রাজনৈতিক মামলা’ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত

নিজস্ব সংবাদদাতা : ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গাজীপুরে বিএনপি ও জামায়াতসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক’ বিবেচনায় দায়ের হওয়া ২৪০টি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এসব মামলার বেশিরভাগই দায়ের করা হয়েছিল বিস্ফোরক দ্রব্য এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন শাখার সহকারী সচিব মোঃ মফিজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পৃথক চারটি পত্রের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকার ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৪৯৪ ধারার আওতায় গাজীপুর জেলার এসব মামলার প্রসিকিউশন না চালানোর (nolle prosequi) সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই মামলা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে গাজীপুর জেলার পাবলিক প্রসিকিউটরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পত্র অনুযায়ী, মামলা প্রত্যাহারের তালিকায় রয়েছে, জয়দেবপুর থানার ৫২টি এবং সদর থানার ১২টি মামলা।
এছাড়াও, টঙ্গী পূর্ব ও টঙ্গী পশ্চিম থানার মোট ৪৩টি,বাসন থানার ২২টি, কাশিমপুর থানার ১১টি, কোনাবাড়ী থানার ১৬টি, গাছা থানার ৮টি এবং পূবাইল থানার ৫টি মামলা। অন্যদিকে, কালিয়াকৈর থানার ২৪টি, কাপাসিয়া থানার ১৫টি, শ্রীপুর থানার ১৬টি এবং কালীগঞ্জ থানার ১৬টি মামলা।

এর মধ্যে, গত ২০ মে বাসন থানার ২০টি, কাশিমপুর থানার ১১টি, কোনাবাড়ী থানার ৯টি,গাছা থানার ৮টি, পূবাইল থানার ৫টি এবং কালিয়াকৈর থানার ১৯টি, শ্রীপুর থানার ১৬টি, জয়দেবপুর থানার ১টি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

একই দিনে পৃথক এক পত্রে বাসন থানার ২টি, কোনাবাড়ী থানার ৭টি, টঙ্গী পশ্চিম থানার ২টি এবং কালিয়াকৈর থানার ৫টি ও জয়দেবপুর থানার ২টি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়।

পরবর্তীতে, গত ১৫ জুন এক পত্রে জানানো হয়, কালীগঞ্জ থানার ১৬টি, কাপাসিয়া থানার ১টি, জয়দেবপুর থানার ৪৯টি এবং সদর থানার ১২টি,টঙ্গী পূর্ব ও টঙ্গী পশ্চিম থানার মোট ৪১টি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সর্বশেষ, গত ১৬ জুন অপর এক পত্রে কাপাসিয়া থানার আরও ১৪টি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে , ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সময়ের মধ্যে দায়ের হওয়া সব রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নিরাপরাধ ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হয়রানি থেকে পরিত্রাণ দিতে এ কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।