কালীগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ, প্রশাসক নিয়োগের দাবি

নিজস্ব সংবাদদাতা : কালীগঞ্জ উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আইয়ুব বাগমারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন পরিষদের সাতজন নির্বাচিত সদস্য। তারা স্থানীয় সরকার বিভাগে লিখিত অভিযোগ দিয়ে ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন আত্মগোপনে যাওয়ার পর গত ১০ নভেম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান-৩ আইয়ুব বাগমারকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি পলাতক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর হোসেনের ঘনিষ্ঠ ও আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত।
দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি পরিষদের কার্যক্রমে স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয় নিচ্ছেন এবং কোনো ধরনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়াই এককভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
অভিযোগকারী সদস্যদের দাবি, পরিষদের কোনো নিয়মিত সভা হচ্ছে না, বাজেট অনুমোদন ছাড়াই অর্থ ব্যয় হচ্ছে এবং প্রকল্পের বরাদ্দের হিসাব সদস্যদের জানানো হচ্ছে না। এমনকি মাসিক আয়-ব্যয়ের বিবরণীও উপস্থাপন করা হয় না।
তারা আরও অভিযোগ করেন, গত রমজানে ঈদ উপলক্ষে ১০ কেজি চাল বিতরণে অনিয়ম করে দলীয়ভাবে স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে, যার ফলে প্রকৃত দরিদ্র উপকারভোগীরা বাদ পড়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অন্তত ১১টি প্রকল্প সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন না করেই প্রায় ২৫ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এ অবস্থায় গাজীপুর জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ডিডিএলজি) আহাম্মদ হোসেন ভূঁইয়া গত ৭ জুলাই ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করেন এবং অসম্পূর্ণ প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।
অভিযোগে স্বাক্ষর করা পরিষদের নির্বাচিত সদস্যরা হলেন, মোঃ জাহাঙ্গীর ফরাজী, রশিদুল আলম, আনোয়ারুল হক নাদেল, মোঃ সিরাজুল ইসলাম, মোঃ খলিলুর রহমান, শেখ মোহাম্মদ সামসুল আলম এবং মোসাঃ হোসনে আরা বেগম।
অভিযোগ দেয়া একাধিক ইউপি সদস্য বলেন, “বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দায়িত্বে থাকলে ইউনিয়ন পরিষদের দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা আরও বাড়বে। আমরা চাই অবিলম্বে একজন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হোক।”
মোক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব অসিত কুমার দাস অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “সাতজন ইউপি সদস্য গাজীপুরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। গত ৭ জুলাই ডিডিএলজি ও ইউএনও স্যার পরিষদ পরিদর্শন করেছেন এবং অসম্পূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন।”
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আইয়ুব বাগমার। তিনি বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সকল সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে, তা সত্য নয়। তদন্তেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে না করে অর্থ উত্তোলনের কোন সুযোগ নেই।”



