গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : পঞ্চগড় সদর ও বোদা উপজেলার পৃথক দুই সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ ২৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠিয়েছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
বুধবার (১৬ জুলাই) গভীর রাতে তাদের ঠেলে পাঠানোর ঘটনা ঘটে।
সংবাদ মাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে পঞ্চগড় সদর থানা ও বোদা থানা কর্তৃপক্ষ।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার দিবাগত রাতে জেলার বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের মালকাডাঙ্গা দাড়িয়ার মোড় সীমান্ত দিয়ে ৬ নারী, ৫ শিশু ও ৬ জন পুরুষসহ মোট ১৭ জনকে রাতের আঁধারে পুশইন করে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ। পরে সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখে তাদের আটক করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান স্থানীয়রা। বিজিবি সদস্যরা খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বোদা থানায় সোপর্দ করে।
অপরদিকে, প্রায় একই সময়ে সদর উপজেলার শিংরোড সীমান্ত দিয়ে ২ নারী, ৩ শিশু ও ২ জন পুরুষসহ আরও ৭ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে পাঠায় বিএসএফ। পরে তাদের আটক করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর সদর থানায় সোপর্দ করে বিজিবি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করছিলেন এবং বিভিন্ন এলাকায় কাজ করতেন। সম্প্রতি গুজরাট ও দিল্লি থেকে তাদের আটক করে ভারতীয় পুলিশ। পরে উড়োজাহাজ ও বাসে করে সীমান্তে এনে বিএসএফের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হিল জামান ও বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দীন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “সীমান্তে পুশইন হওয়া ২৩ জনকে বিজিবি থানায় হস্তান্তর করেছে। আমরা তাদের নাম ঠিকানা যাচাই করছি।”
আপাতত তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
নীলফামারী-৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক শেখ মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “পঞ্চগড়ের পৃথক দুই সীমান্তে ২৪ জনকে পুশ-ইন করেছে বিএসএফ। এরপর আমাদের বিজিবির টহল দল তাদের আটক করে। এ বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”