গাজীপুর

পূর্বাচলে ‘বিশেষ জীববৈচিত্র্য এলাকা’ থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : রাজধানীর পার্শ্ববর্তী পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের সেক্টর ২৪ ও ২৫–এর শালকপিচ সমৃদ্ধ ১৪৪ একর সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। এলাকাটি সরকার সম্প্রতি ‘বিশেষ জীববৈচিত্র্য এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

সোমবার (২৮ জুলাই) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান দিনব্যাপী চলবে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা আফ্রাদ এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নূরী তাসমিন ঊর্মি। অভিযানে অংশ নেয় পুলিশ, র‍্যাব ও আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা।

সরকারি গেজেট অনুযায়ী, ‘বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ এর ২২(১) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের পারাবর্তা মৌজায় অবস্থিত পূর্বাচলের সেক্টর ২৪ ও ২৫–এর ১৪৪ একর জমিকে গত বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের (বন শাখা-২) উপসচিব ড. মো. সাইফুর রহমানের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে ‘বিশেষ জীববৈচিত্র্য এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এলাকাটি বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় গাছপালা, পাখি, পোকামাকড় ও ছোট প্রাণীতে সমৃদ্ধ। এই এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে যেকোনো ধরনের নির্মাণ, দখল বা কৃষি কাজ নিষিদ্ধ।

প্রশাসনের দাবি, সরকারি এসব জমি দখল করে অন্তত ৪৪ জন ব্যক্তি ১৫৫ টি স্থাপনা নির্মাণ করেছিল। এসব স্থাপনা নির্মাণের কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না।

জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার পরিবেশ, বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়ে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, দেশে বনভূমির পরিমাণ ১৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং বৃক্ষাচ্ছাদিত রয়েছে ২২ দশমিক ৩ শতাংশ জমিতে। ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি লক্ষ্য অনুযায়ী এই হার ২৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় সরকার দেশে সামাজিক বনায়ন, সংরক্ষিত বন সৃষ্টি, উপকূলীয় বনায়ন ও গ্রামীণ বন উন্নয়নের ওপর জোর দিচ্ছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮(ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “রাষ্ট্র জীববৈচিত্র্য, বন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

এছাড়া ২০১২ সালে প্রণীত বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী, ঘোষিত সংরক্ষিত এলাকা বা বিশেষ জীববৈচিত্র্য এলাকায় নির্মাণ, গাছ কাটা বা বসবাস করা আইনত দণ্ডনীয়। এই আইনের আওতায় পূর্বাচলের এই এলাকায় গড়ে ওঠা ঘরবাড়িগুলো বেআইনি হিসেবে গণ্য হয়।

প্রশাসনের দাবি, দখলদাররা দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যা দলিল ও মৌখিক প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে ঘর নির্মাণ করে আসছিলেন, সেগুলোর কোনো নথিভুক্ত ভিত্তি নেই।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা আফ্রাদ জানান, এলাকাটি পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এখান থেকে অবৈধ দখলদারদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই এলাকার জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button