গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানচর্চা ও উদ্যোক্তা মনোভাব বিকাশের লক্ষ্যে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’।
এই কর্মসূচির আওতায় শুক্রবার (১২ জুন) কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণেও আয়োজন করা হয় শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানচর্চা ও উদ্যোক্তা মনোভাব বিকাশ প্রদর্শনী।
দুপুরে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম কামরুল ইসলাম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তাদের বিভিন্ন উদ্ভাবন প্রদর্শন করে। এই ১৩টি প্রতিষ্ঠানের ৬৫ জন শিক্ষার্থী জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে নিবন্ধন করেছেন।
জানা গেছে, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা সৃষ্টিতে গুরুত্বারোপ এবং সুশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (এসইডিপি) আওতাভুক্ত এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিমের পারফরম্যান্স বেজড গ্র্যান্টস ফর সেকেন্ডারি ইনস্টিটিউশনস স্কিমের (পিবিজিএসআই) মাধ্যমে উদ্ভাবনী মেধাবী শিক্ষার্থী পুরস্কার ও সুশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক পুরস্কার প্রদানের লক্ষ্যে দেশব্যাপী এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
দেশব্যাপী ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই কর্মসূচি তিনটি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে—উপজেলা-থানা, জেলা ও জাতীয়। প্রতিটি ধাপের বিজয়ীদের পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। মাউশির এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিমের (ইইএসএস) আওতায় প্রথমবারের মতো এই কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

আয়োজকেরা জানান, এই কর্মসূচির লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত দক্ষতার উন্নয়ন এবং আনন্দময় শিক্ষার মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যতের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। পাশাপাশি মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা ও উদ্ভাবনী দক্ষতার বিকাশ ঘটানোও এর একটি লক্ষ্য। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা ও বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টায় উৎসাহিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
শুক্রবার সারা দেশে উপজেলা ও মহানগর শিক্ষা থানা মিলিয়ে মোট ৫২০টি উপজেলা ও থানায় মেলার আদলে এই প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব আয়োজনে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরাও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকেরা জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে একাধিক দল অংশগ্রহণের সুযোগ থাকায় লক্ষাধিক দল নিবন্ধন করেছে।
প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী, উপজেলা-থানা পর্যায়ে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী দলগুলো পুরস্কৃত হবে। এই পর্যায় থেকে নির্বাচিত সেরা দলগুলো আগামী ১৪ জুন জেলা পর্যায়ের প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। জেলা ও মহানগর পর্যায় থেকে বাছাই করা হবে সেরা ১০০টি দল।
এরপর ২৮ জুন রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই ১০০টি দলকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত অনুষ্ঠান, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এই পর্যায়ে দলগুলো তাদের স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করবে, যেখান থেকে নির্বাচিত হবে সেরা ১০টি দল।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বিজয়ী শিক্ষার্থীরা পাবেন ২০ হাজার টাকা ও সনদ, এবং বিজয়ী শিক্ষকেরা পাবেন ৩০ হাজার টাকা ও সনদ।
আয়োজকেরা প্রত্যাশা করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যার স্থানীয় সমাধান খুঁজে বের করার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পথ উন্মুক্ত হতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ধারণা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ একই মঞ্চে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করবে এই কর্মসূচি।