জাতীয়রাজনীতি

জনগণ প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়ন চায়: তারেক রহমান

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : বিএনপির জনগণের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রণয়নের চেষ্টা করছি বলে মন্তব্য করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ পরিবর্তন চায়। এখন আর স্বপ্ন কিংবা প্রতিশ্রুতি চায় না। জনগণ এবার প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চায়। আগামী দিনের নীতি, জনগণের জীবন উন্নয়নের রাজনীতি, দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা-এটি হবে আমাদের রাজনীতির অন্যতম মূল লক্ষ্য।

সোমবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গনে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে এক যুব-সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

‘ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন ও আমার না বলা কথা’ শীর্ষক যুবসমাবেশের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী যুবদল। সমাবেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যুব দলের নিহত ৭৮ পরিবারের শহিদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা ও আর্থিক সহযোগিতা তুলে দেন বিএনপি মহাসচিব। অভ্যুত্থানের ওপর কবিতা আবৃত্তি করেন নাসিম আহমেদ।

তারেক রহমান বলেন, মানুষের ভোটের অধিকার ও বাক স্বাধীনতাকে যেমন নিশ্চিত করা, একই সঙ্গে সমাজের দেশের প্রত্যেকটি মানুষ যার যে যোগ্যতা-মেধা, সেই হিসাবে তাকে তার অবস্থান থেকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিএনপির একাধিক টিম দেশের প্রতিটি সেক্টরকে নিয়ে গভীরভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর এই দেশের মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার, কথা বলার অধিকারের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। কতো অত্যাচার নির্যাতনের শিকার তা আজ এই সমাবেশের মঞ্চে শহিদ পরিবারের সদস্য যারা বসে আছেন তাদের দেখেলেই বোঝা যায়।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, শুধু জুলাই-আগস্ট না, বিগত ১৫ বছর ধরে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মীর বাইরেও সমাজের বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষরা নিজেদের অধিকারের কথা তুলে ধরতে গিয়ে বিভিন্নভাবে সেই পলাতক স্বৈরাচারে অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এই সব মানুষগুলোকে, সব শহিদ এবং সব অত্যাচারিত মানুষ যারা বেঁচে আছেন, নির্যাতিত হয়ে বেঁচে আছেন, প্রত্যেককে সত্যিকারভাবে সম্মানিত করতে চাই। এই দেশকে সামনে নিয়ে যেতে হবে। তাদেরকে শ্রদ্ধা করার একমাত্র উপায় হচ্ছে তারা যে প্রত্যাশা নিয়ে রাজপথে নেমে এসেছে, সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা। সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাদেরকে সম্মান জানানোর একটি মাত্র উপায়।

যুবদলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান রেখে তিনি বলেন, আপনারা জনগণের বিশ্বাস ধরে রাখুন। মনে রাখবেন, জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারলে আপনি নেতা। জনগণ প্রত্যাখ্যান করলে আপনি নেতা নন। প্রশাসনিক সহায়তায় নেতৃত্ব হয়তো প্রদর্শন করা যায় কিন্তু জনগণ সহায়তা করলে নেতৃত্ব দেওয়া যায় না।

পাঁচ বছরে ২৫ থেকে ৩০ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যে
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে হলে পরিবেশ এবং জলবায়ুর পরিবর্তন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অত্যন্ত। এটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বোধহয় কোনো সুযোগ নেই। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, পরিবেশের ব্যালেন্স রক্ষা করার জন্য পাঁচ বছরে ২৫ থেকে ৩০ কোটি গাছ লাগানো, ইনশাল্লাহ। সেই গাছ পরিবেশকে যেমন রক্ষা করবে একইভাবে বাংলাদেশকে বন্যা খরা থেকেও রক্ষা করবে।

তিনি বলেন, কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্ল্যান প্রোগ্রাম বা কর্মসূচি আমরা পর্যায়ক্রমে তৈরি করছি। আমরা হেলথ কেয়ার ওয়ার্কার নিয়োগের পরিকল্পনা করেছি। এই হেলথ কেয়ার নিয়োগের শতকরা ৮০ শতাংশ হবে যুবসমাজের মধ্য থেকে নারী সদস্য। তারা একদিকে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ঘটবে অপরদিকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনগণের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবায় তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।

শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি বিখ্যাত এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি কর্মসূচি খাল খনন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা পরিচালনা করে দেখেছি। আগামী দিনে সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে আমরা যেকোনো মূল্যে সমগ্র দেশে শহিদ জিয়ার খাল খনন কর্মসূচি আবার শুরু করব, ইনশল্লাহ। মানুষকে রক্ষায় এই খাল খনন কর্মসূচি একটি এন্টিবায়োটিকের মত কাজ করে।

তারেক রহমান বলেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের মানুষ কথামালার রাজনীতি আর চাচ্ছে না। তারা একটি পরিবর্তন চাচ্ছে, প্রতিশ্রুতি চাচ্ছে না। বরং প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চাচ্ছে। জনগণ এখন সুস্থ পরিকল্পনা গ্রহণ এবং প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ছিল এবং জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণের লক্ষে বিএনপি জনগণের জীবনমান উন্নয়নের সুনির্দিষ্টভাবে কতগুলো পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।

গণতন্ত্র উত্তরণের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল
বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে তারেক রহমানের ভাবনাকে ‘ড্রিম’ হিসেবে দেখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, তারেক রহমান আমাদেরকে যে পথ দেখাচ্ছেন, অর্থনীতি-রাজনীতি সম্পর্কে যে কথাগুলো বলছেন, দেশের সামনে যে স্বপ্ন তুলে ধরছেন। ইনশাল্লাহ সেই ড্রিম নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব এবং আমরা জয় করব। আসুন সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করে আমরা বাংলাদেশকে সেই দিকে এগিয়ে নিয়ে যাই, মাথা উঁচু করে দাঁড়াই।

গণতন্ত্র উত্তরণের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে সবাইকে সর্তক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আজকে দেশে আবার একটা অস্থিরতা সৃষ্টি করার জন্য ষড়যন্ত্র চক্রান্ত চলছে। যেন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের রুপান্তর না হয়। আমরা বিশ্বাস করি, যুবদল, ছাত্রদল যতদিন টিকে থাকবে ততদিন এই দেশে এই গণতন্ত্রকে ধ্বংস করবার কোনো শক্তি কখনো জয়ী হতে পারবে না।

আরেক নাটক শুরু করেছে: মির্জা আব্বাস
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘একজন মেজর সাদিক দেশে বসে চক্রান্ত করছে সরকারকে বিপদে ফেলতে। এই সমস্ত চক্রান্ত কিন্তু আমরা বুঝি। নির্বাচন যাতে পেছানো যায়, যাতে নির্বাচনটা না হয় এজন্য একটি নাটক বানানো শুরু করেছেন। কিন্তু মনে রাখবেন, দেশের মানুষ ১৭ বছর আন্দোলন করেছে ভোটের জন্যে। এই সরকারের কাছ থেকে আমরা ভোট আদায় করেই ছাড়ব। সরকারের পেছনে-ভিতরে-বাইরে যতই ষড়যন্ত্র চলুক, কোনো ষড়যন্ত্রকেই বিএনপি অপ্রতিরোধ্য মনে করে না। আগামী দিনে কোনো স্বৈরশাসককে আমরা প্রতিষ্ঠিত হতে দেব না।

জাতীয়তাবাদী যুব দলের সভাপতি এম আবদুল মোনায়েম মুন্নার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মেহেদি আমিন, মানবাধিকার কর্মী সাইয়েদ আবদুল্লাহ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন, দীর্ঘদিন গুম হয়ে থাকা অ্যাডভোকেট সোহেল রানা, জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের হাসপাতালে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক সায়েম আল মনসুর ফয়েজী, জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের হাসপাতালে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক সায়েম আল মনসুর ফয়েজী, শহীদ মোসলেহ উদ্দিনের ছেলে আপন, ইয়াহিয়া আলীর মেয়ে তাইয়েবা খাতুন, হাফিজুর রহমান সুমনের স্ত্রী বিধী আখতার, নাদিম মিজানের স্ত্রী তাবাসসুম আখতার নেহা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে যুব দলের সাবেক নেতৃত্ব গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বরকত উল্লাহ বুলু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাইফুল আলম নিরব ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকু উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button