গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : খাগড়াছড়ি সদর ও গুইমারা উপজেলায় সহিংসতার ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা করেছে পুলিশ। এসব মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে এক হাজারেরও বেশি মানুষকে।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল।
তিনি জানান, গত শনি ও রোববার জেলা সদর ও গুইমারা উপজেলায় জুম্ম ছাত্র জনতার অবরোধ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি প্রশাসন। তবে এ আদেশ ভঙ্গ করে সরকারি কাজে বাধা, হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার রাতে সদর থানায় একটি মামলা করে পুলিশ। আসামি করা হয় অজ্ঞাত ২৫০-৩০০ জনকে। অন্যদিকে গুইমারা থানায় পুলিশের করা দুটি মামলায় অজ্ঞাত আর সাড়ে আটশ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, এদিন খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় পরিস্থিতির স্বাভাবিক রয়েছে। কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর দোকানপাট ও হাট-বাজার খুলেছে। জনসমাগমও ছিল চোখে পড়ার মতো। বেড়েছে যান চলাচলও। দূর পাল্লার রুটের সব ধরনের পরিবহন ছেড়ে গেছে। স্বাভাবিক হয়েছে পর্যটক চলাচলও।
তবে ১৪৪ ধারা এখনো বহাল থাকায় বিভিন্ন সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও চেকপোস্ট অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি চলছে তল্লাশি কার্যক্রমও।
গত ২১ সেপ্টেম্বর জেলা সদরে এক স্কুল ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে অবরোধ কর্মসূচির ডাক দেউ জুম্ম ছাত্র জনতা নামে এক সংগঠন। পরে সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ধর্ষণের অভিযোগ থাকা কিশোরীর মেডিকেল টিমের রিপোর্ট হাতে পেয়েছে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তার কাছে তা দেয়া হয়েছে। তবে ওই রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত মেলেনি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে সেনাবাহিনী বলছে, ধর্ষণ অভিযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাহাড়কে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ফেলার গভীর চক্রান্ত করেছিল ইউপিডিএফ।