আলোচিত

৫ লাখ নতুন কর্মী নেবে ইতালি, সুযোগ পাবেন বাংলাদেশিরাও 

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : শ্রমবাজারের ঘাটতি পূরণে ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত তিন বছরে কমপক্ষে পাঁচ লাখ নতুন কর্মী নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপের দেশ ইতালি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলো থেকে এসব কর্মী নেবে দেশটি, যেখানে বাংলাদেশিদের জন্যও সুযোগ রয়েছে।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ইতালির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনসার বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে অভিবাসী সংক্রান্ত সংবাদমাধ্যম ইনফোমাইগ্রেন্ট।

প্রতিবিদনে বলা হয়, গত বুধবার (১৮ নভেম্বর) এ সংক্রান্ত একটি ডিক্রির অনুমোদন দিয়েছে ইতালির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ। ১৪৬ নম্বর সরকাটি চলতিরি ডিক্রি বছরের অক্টোবরের শুরুতে পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হয়েছিল।

ডিক্রি অনুযায়ী, আগামী বছর মোট এক লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০ জন কর্মীকে নিয়োগ দেবে দেশটি। আর ২০২৮ সালের মধ্যে এই সংখ্যাটিকে চার লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০ জনে উন্নীত করা হবে।

তিন বছর আগে ইতালির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া ডানপন্থি রাজনীতিবিদ জর্জা মেলোনি তার মেয়াদের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এ ধরনের পদক্ষেপ নিলেন। দেশটির সরকার ইতিমধ্যেই ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সাড়ে চার লাখেরও বেশি বিদেশি কর্মীকে ওয়ার্ক পারমিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বুধবার পার্লামেন্টে এ সংক্রান্ত ডিক্রির পক্ষে ভোট দিয়েছেন ১৩১ জন আইনপ্রণেতারা। আর বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ৭৫ জন। সাত জন ভোটে অংশ নেননি।

ডিক্রিতে ২০২৬-২০২৮ পর্যন্ত বিদেশি কর্মীদের নিয়মিত পথে আগমন এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত জরুরি পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই আইনের আলোকে একজন বিদেশি কর্মীর কর্মসংস্থানের ভিত্তিতে তার বসবাসের অনুমতির সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। প্রশাসনকে নিয়োগকর্তা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের নথি যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে, বসবাসের অনুমতি চেয়ে আবেদনের সময় সম্ভাব্য নিয়োগকর্তার নিয়োগপত্র বা তার নিয়োগের ইচ্ছা সংক্রান্ত নথি জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতার বিধান বাতিল করা হয়েছে।

যা থাকছে এই ‘ফ্লো ডিক্রি’-তে
নতুন এই আইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট পেতে ৩০ দিনের সময়সীমা বেধে দেয়া হয়েছে। এছাড়া উৎস দেশগুলোতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষে ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা পরীক্ষামূলকভাবে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

নির্ধারিত কোটার বাইরেও ইতালিতে বসবাসের সুযোগ ২০২৮ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তি, প্রবীণ এবং ছয় বছরের নিচের শিশুদের জন্য পারিবারিক বা স্বাস্থ্যসেবা কর্মী হিসেবে অন্তত ১০ হাজার বিদেশিকে নিয়োগ দেয়া হবে।

মানবপাচার বা গুরুতর শোষণের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের সামাজিক সুরক্ষার আওতায় এবং গ্যাংমাস্টারিংয়ের শিকার বিদেশি নাগরিকদের আবাসিক অনুমতির মেয়াদ ছয় মাস থেকে এক বছরে উন্নীত করা হয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই বলা হয়েছে, চাকরির ভিত্তিতে বসবাসের অনুমতির মেয়াদ বাড়ানো যাবে।

কৃষিক্ষেত্রে গ্যাংমাস্টারিং ও শোষণ মোকাবিলা সংক্রান্ত কমিটিতে স্বীকৃত ধর্মীয় সংগঠনগুলোর যুক্ত হওয়ার সুযোগ বাড়ানো হয়েছে।

পারিবারিক সহিংসতা শিকার হয়ে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় যারা ইতালিতে থাকার অনুমতি পেয়েছেন তারা দেশটির দারিদ্র্যবিরোধী ‘ইনক্লুশন চেক’-এর জন্যও আবেদনের সুযোগ পাবেন।

কঠোর হচ্ছে পরিবার পুনর্মিলন
পারিবারিক পুনর্মিলেনর শর্ত কঠোর করা সংক্রান্ত জোট সরকারের শরিক লিগ পার্টির প্রস্তাবেও অনুমোদন দিয়েছে পার্লামেন্ট। ফলে, পারিবারিক পুনর্মিলনের অনুমতির সময়সীমা ৯০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১৫০ দিন করা হয়েছে।

ইতালির উপ প্রধানমন্ত্রী ও পরিবহণমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনির দল এ সংক্রান্ত আরেকটি প্রস্তাবও রেখেছে। এতে বলা হয়েছে, আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তার নিয়ম লঙ্ঘন করলে বসবাসের অনুমতি সংক্রান্ত নবায়ন বাতিল করা যাবে।

সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্ট

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button