গ্রিনল্যান্ড দখলের বিরোধিতা করলে শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনায় সমর্থন না দিলে বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই ইস্যুতে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরির জন্য যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে।
শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে হোয়াইট হাউসে এক গোলটেবিল আলোচনায় ট্রাম্প বলেন, “যদি কোনো দেশ গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে আমাদের সঙ্গে না থাকে, তাহলে আমি তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারি। কারণ জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। তাই আমি এমন পদক্ষেপ নিতে পারি।”
তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আর্কটিক অঞ্চলের এই দ্বীপটি আনা তার প্রশাসনের জন্য একটি কৌশলগত প্রয়োজন।
হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক স্বাস্থ্যবিষয়ক অনুষ্ঠানে তিনি আবারও বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তার জন্য আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার।”
ডেনমার্কের অধিভুক্ত হলেও স্বশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার কথা বলে আসছেন ট্রাম্প। গত কয়েক মাসে তিনি একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।
তবে লক্ষ্য অর্জনে শুল্ক আরোপের মতো অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কথা ট্রাম্প এই প্রথম প্রকাশ্যে বললেন। বিশ্লেষকদের মতে, এ বক্তব্য গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে কী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং যুক্তরাষ্ট্র আদৌ শুল্ক আরোপের পথে এগোয় কি না—তা এখনো দেখার বিষয়।
এদিকে ট্রাম্পের এ ধারাবাহিক হুমকির প্রেক্ষিতে গ্রিনল্যান্ডে সেনা মোতায়েন শুরু করেছে ইউরোপীয় দেশগুলো। গ্রিনল্যান্ডের মালিক ডেনমার্কের অনুরোধে জার্মানি ও ফ্রান্সের কয়েক ডজন সেনা ইতোমধ্যে দ্বীপটিতে পৌঁছেছে।
গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচেষ্টার প্রেক্ষিতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গত বুধবার এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে বলেছেন, যদি কোনো ইউরোপীয় দেশ এবং মিত্রের সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে তার পরবর্তী প্রভাব হবে অভূতপূর্ব।
নিঃসন্দেহে, ইউরোপীয় দেশগুলো, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বিশ্বস্ত মিত্র ও ন্যাটো জোটের শরীক, তারাই ট্রাম্পের এ গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনার বিরোধীতা করছেন। এখন ট্রাম্প কি আসলেই তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করবেন? সেটা সময়ই বলে দিবে।
সূত্র: ডিডব্লিউ, ফোর্বস



