ছয় সিটিতে বিএনপি নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ: ‘পরাজিতদের পুরস্কার’ নাকি দলীয় পুনর্বাসন?

ছয় সিটিতে বিএনপি নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ: ‘পরাজিতদের পুরস্কার’ নাকি দলীয় পুনর্বাসন?

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : দেশের ছয়টি প্রধান সিটি করপোরেশনে একযোগে ছয়জন বিএনপি নেতাকে প্রশাসকের দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।

রোববার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সিটি করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা এই পদে বহাল থাকবেন।

কিন্তু নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকায় চোখ রাখলেই যে প্রশ্নটি উঠে আসছে তা হল — এঁরা প্রায় প্রত্যেকেই হয় সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনে পরাজিত, নয়তো দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মো. আব্দুস সালাম, যিনি একসময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট ছিলেন আব্দুস সালাম।

উত্তরের দায়িত্বে এসেছেন মো. শফিকুল ইসলাম খান, যিনি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের কাছে পরাজিত হয়েছেন।

খুলনায় সিটির প্রশাসকের দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু — তিনিও খুলনা-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর কাছে হেরে গিয়েছেন।

সিলেট সিটির প্রশাসক জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সিলেট-৩ আসনে দলীয় মনোনয়নই পাননি। তবে তাকে মনোনয়ন না দিলেও সিলেট জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে বিএনপির নির্বাচন সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

নারায়ণগঞ্জ সিটির প্রশাসক নিযুক্ত মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান ২০১৬ সালের সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে হেরেছিলেন, এবার সংসদ নির্বাচনেও দলের টিকিট পাননি।

আর গাজীপুর সিটির প্রশাসকের দায়িত্বপ্রাপ্ত মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকারও মনোনয়নপ্রত্যাশী হয়ে শূন্য হাতে ফিরেছিলেন।

রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এই নিয়োগ কি নিছকই প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা, নাকি নির্বাচনী ব্যর্থতার ক্ষতিপূরণ হিসেবে দলীয় নেতাদের পুনর্বাসনের কৌশল? ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার মুহূর্তে এই নিয়োগ যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৮ অগাস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৯ অগাস্টই দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত মেয়রদের সরিয়ে প্রশাসক বসানো হয়েছিল।