মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান ইরাকে ভূপাতিত

মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান ইরাকে ভূপাতিত

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের মধ্যে পশ্চিম ইরাকে একটি রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট বা জ্বালানি ভরার উড়োজাহাজ ভূপাতিত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।

মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার কিছু অংশের দায়িত্বে থাকা এ কমান্ড বৃহস্পতিবার এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলেছে, তারা স্ট্র্যাটোট্যাংকারটির ক্রু’দের উদ্ধারে কাজ করছে।

এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের খবর মেলেনি, বলেছে আল জাজিরা।

“একটি মার্কিন কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট হারানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড অবগত। অপারেশন এপিক ফিউরি চলাকালে বন্ধুত্বপূর্ণ আকাশসীমায় এ ঘটনা ঘটেছে, উদ্ধার তৎপরতা চলছে,” বলেছে সেন্টকম নামে পরিচিত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।

কীভাবে বিমানটি ভূপাতিত হয়েছে তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিলেও নিজেদের দুটি বিমানের মধ্যে সংঘাত বা খুব কাছাকাছি চলে আসার পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় ওই কেসি-১৩৫ ভূপাতিত হতে পারে বলে তাদের বিবৃতিতে আভাস দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় বিমানটি ‘নিরাপদে অবতরণ করেছে’, বলেছে তারা।

“শত্রুপক্ষের হামলা কিংবা মিত্রদের ভুলক্রমে হামলার কারণে এটি ঘটেনি,” ভাষ্য মার্কিন সেন্টকমের।

তবে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক বলছে, তারাই যুক্তরাষ্ট্রের ওই কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকারটি ভূপাতিত করেছে।

যুদ্ধরত বিমানে জ্বালানি ভরায় এই স্ট্র্যাটোট্যাংকারগুলোই মেরুদণ্ডের ভূমিকা পালন করে।

নিজেদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া বিবৃতিতে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স বলেছে, তাদের যোদ্ধারা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা দিয়ে বিমানটিকে নিশানা করলে সেটি ভূপাতিত হয়।

যুদ্ধের একেবারে প্রথমদিকে কাতারে তিনটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পাল্টায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সেসময় ইরান মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছিল, তার মধ্যেই কুয়েতি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলে ওই বিমানগুলো ভূপাতিত হয় বলে পরে দাবি করেছিল ওয়াশিংটন।

ছয় ক্রু ওই যুদ্ধবিমানগুলো থেকে নিরাপদেই বের হতে সক্ষম হয়েছিলেন, তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে পরে জানানোও হয়েছিল।

গুয়ামের মার্কিন ঘাঁটিতে একটি মার্কিন কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকার।

কেসি-১৩৫ উড়োজাহাজের কাজ কী
যুদ্ধক্ষেত্রে এই ট্যাংকার উড়োজাহাজগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লক্ষ্যবস্তু অনেক দূরে হলে যুদ্ধবিমান বা বোমারু বিমানগুলোকে যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ করে এগুলো সচল রাখে। এটি মূলত একটি বিশাল লজিস্টিক অপারেশন, যেখানে একই সময়ে আকাশে থাকা অনেকগুলো যুদ্ধবিমানের জ্বালানির প্রয়োজন পড়ে।

জ্বালানি নেওয়ার প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। ট্যাংকার উড়োজাহাজ থেকে একটি ‘প্রোব’ বা নল বের করে নিচে নামিয়ে দেওয়ার আগে অন্য যুদ্ধবিমানটি বা বোমারু বিমানটিকে ট্যাংকারের খুব কাছ দিয়ে উড়তে হয়। গ্রহীতা যুদ্ধবিমানের পাইলট তখন প্রোবের দিকে এগিয়ে যান এবং ট্যাংকারের নিচের আলোকসংকেত অনুসরণ করে নিজের অবস্থান এমনভাবে সমন্বয় করেন যাতে প্রোবটি যুদ্ধবিমানের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

সংযোগ স্থাপিত হওয়ার পর জ্বালানি স্থানান্তরের এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক মিনিট সময় লাগে। পুরোটা সময় যুদ্ধবিমানটি বড় ট্যাংকার থেকে মাত্র কয়েক ফুট দূরত্বে অবস্থান করে, যা প্রায়শই রাতের আঁধারে করা হয়।

আশপাশে আরও অনেক যুদ্ধবিমান থাকার পরিবেশে প্রোব কিংবা ‘শাটলকক আকৃতির ‘ড্রগ’-এর সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখা পাইলটের জন্য অত্যন্ত মুনশিয়ানার কাজ। শত্রুর নজর এড়াতে অনেক সময় জ্বালানি নেওয়ার এই মিশনের সময় উড়োজাহাজের সব আলো নেভানো থাকে।

কেসি-১৩৫ উড়োজাহাজের দাম কত
দীর্ঘমেয়াদি সামরিক মিশনে মার্কিন বিমানবাহিনীর ব্যবহৃত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ হলো বোয়িং কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকার। এর প্রধান কাজ হলো আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় জ্বালানি সরবরাহ করা। এর ফলে যুদ্ধবিমান, বোমারু বিমান এবং নজরদারি উড়োজাহাজগুলো উড্ডয়নরত অবস্থাতেই জ্বালানি গ্রহণ করতে পারে। এই সক্ষমতার কারণে সামরিক উড়োজাহাজ ও যুদ্ধবিমানগুলো অবতরণ না করেই দীর্ঘ সময় আকাশে থাকতে পারে এবং তাদের অভিযানের পরিধিও অনেক বেড়ে যায়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস নাও-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই উড়োজাহাজ মার্কিন বিমানবাহিনীর আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহের প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বৈশ্বিক সামরিক অভিযানে সহায়তা দিচ্ছে।

দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৮ অর্থবছরের স্থির ডলারের হিসাবে প্রতিটি কেসি-১৩৫ উড়োজাহাজের উৎপাদন খরচ প্রায় ৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। উড়োজাহাজটি তৈরি করে বোয়িং কোম্পানি। অবশ্য বর্তমানে নতুন করে আর তৈরি না করে এসব উড়োজাহাজকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়ে থাকে।