=গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলি সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই তেহরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনিকে হত্যার প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) তিনি আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে চালানো এ আকাশ যুদ্ধে ইরানের শাসনব্যবস্থার ‘পতন নাও হতে পারে’।
প্রায় দুই সপ্তাহের টানা বোমাবর্ষণে ইরান ‘আর আগের মত নেই’, তাদের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর ও বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দাবি করে ইসরায়েলি এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার বাহিনী লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধেও আক্রমণ অব্যাহত রাখবে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, যুদ্ধের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে মেরে ফেললে তার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলে হামলা চালায় হিজবুল্লাহ; এর প্রত্যুত্তরে এখন লেবাননে টানা বোমাবর্ষণ করে যাচ্ছে তেল আবিব।
আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মুজতাবা খামেনিকে দেশের সর্বোচ্চ নেতার পদে বসায় ইরানের সংবিধান নির্ধারিত ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ।
দুটি ইসরায়েলি পতাকার দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন নেতানিয়াহু। এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি সশরীরে উপস্থিত ছিলেন না, ভিডিও লিংকের মাধ্যমে সংযুক্ত হন।
মুজতাবা খামেনি ও হিজবুল্লাহপ্রধান নাইম কাশেমের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের পদক্ষেপ কী হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ইসরায়েলের এ কট্টর ডান প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সন্ত্রাসী সংগঠনের কোনো নেতার জন্য জীবন বীমা নীতি নিতে পারছি না আমি। আমরা কী পরিকল্পনা করছি বা কী করতে যাচ্ছি সে বিষয়ে এখানে নির্ভুল প্রতিবেদন দেওয়ার ইচ্ছা নেই আমার।”
নেতানিয়াহু যখন কথা বলছিলেন তখনও ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলাজনিত সাইরেন শোনা যাচ্ছিল।
ইসরায়েল বলছে, তেহরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি; সেই হুমকি দূর করতেই ইরানের ওপর হামলা চলছে। তেল আবিব ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন দেখতেও ইচ্ছুক। তারা চায়, ইরানের সরকারবিরোধীরা সামনে এগিয়ে এসে দায়িত্ব নিক।
কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র হামলা শুরু করার পর প্রায় দুই সপ্তাহ হতে চলল, ইরানে সরকারবিরোধী তেমন কোনো বিক্ষোভের লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে রয়টার্স। উল্টো প্রায় প্রতিদিনই অসংখ্য শহরে সরকারপন্থিরা বড় বড় মিছিল সমাবেশ করছে।
ইসরায়েল ইরানের শাসকগোষ্ঠীর বিরোধীদের অস্ত্রশস্ত্র দিচ্ছে কিনা, দেশটিতে সরকার ফেলে দেওয়ার যে লক্ষ্য তারা নিয়েছে তা ব্যর্থ হতে পারে কিনা—এমন সব প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের ক্ষমতাসীনদের পতন যদি নাও হয়, এবারের হামলার পর তারা ভয়ানক দুর্বল থাকবে।
“কী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি তার বিস্তারিত বলব না। আমরা সেখানকার শাসকগোষ্ঠীকে উৎখাতে সর্বোত্তম পরিস্থিতি সৃষ্টি করছি, তবে অস্বীকার করবো না—দেশটির জনগণ ওই শাসকদের উৎখাত করতে পারবেই এমনটা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না; শাসনব্যবস্থার পতন ভেতর থেকেই হয়।
“তবে আমরা সহায়তা করতে পারি, এবং করছিও,” বলেছেন তিনি।