যুদ্ধের খরচ জোগাতে ২০০ বিলিয়ন ডলার চায় পেন্টাগন, ট্রাম্প বললেন ‘সামান্য মূল্য’

যুদ্ধের খরচ জোগাতে ২০০ বিলিয়ন ডলার চায় পেন্টাগন, ট্রাম্প বললেন ‘সামান্য মূল্য’

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরান যুদ্ধের খরচ জোগাতে কংগ্রেসের কাছে ২০০ বিলিয়ন (২০ হাজার কোটি) ডলারেরও বেশি অর্থ চাওয়ার পরিকল্পনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ময়দানে সেনার প্রয়োজনীয় রসদ নিশ্চিত করতে এই বিপুল অর্থকে ‘সামান্য মূল্য’ বলেই দাবি তার। তবে ট্রাম্প বলেছেন, এই তহবিল শুধু ইরান যুদ্ধের খরচ মেটানোর জন্য নয়, এর নেপথ্যে আরও বেশ কিছু উদ্দেশ্য রয়েছে।

বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে বসে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সর্বকালের সেরা অবস্থায় থাকতে চাই। সেরা অবস্থায় থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে এইটুকু মূল্য নেহাতই সামান্য।’

ঠিক কী কারণে পেন্টাগনের এই বিপুল অর্থ প্রয়োজন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু খোলাসা করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শুধু জানিয়েছেন, সেনার হাতে যাতে ‘বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ’ মজুত থাকে, তা নিশ্চিত করতে চান তিনি।

তবে আমেরিকায় অস্ত্রের কোনো রকম ঘাটতি দেখা দিয়েছে, এমন জল্পনা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, প্রশাসন খরচ করার বিষয়ে যথেষ্ট ‘বিবেচক’।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইরান প্রসঙ্গে আমরা যা আলোচনা করছি, তার বাইরেও অনেক কারণে এই অর্থ চাওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে অত্যাধুনিক গোলাবারুদ আমাদের হাতে প্রচুর রয়েছে। তবে আমরা তা ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করতে চাইছি।’

এর আগে একজন সিনিয়র কর্মকর্তার বরাতে ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে কংগ্রেসের কাছে ২০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ চাওয়ার পরিকল্পনা করেছে পেন্টাগন। এই প্রস্তাবে হোয়াইট হাউসকে ছাড়পত্র দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে এই বিপুল অঙ্কের তহবিলের দাবি ঘিরে কংগ্রেসের অন্দরে যুদ্ধ-বিরোধী আইনপ্রণেতাদের প্রবল বাধার মুখে পড়তে হতে পারে পেন্টাগনকে।

গত তিন সপ্তাহ ধরে ইরানের হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে যৌথভাবে হামলা চালিয়েছে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী। তাতে প্রচুর গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ খরচ হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত অন্য তিন সূত্রের খবর, ফুরিয়ে যাওয়া সেই অস্ত্রের উৎপাদন জরুরি ভিত্তিতে বাড়াতেই এই বিপুল অঙ্কের প্যাকেজ চাইছে প্রতিরক্ষা দপ্ততর। সূত্রগুলোর মতে, এখনও পর্যন্ত এই বিমান হামলায় আমেরিকার যা খরচ হয়েছে, তহবিলের এই নতুন দাবি তাকেও বহুগুণে ছাপিয়ে যাবে।

নাম না প্রকাশের শর্তে এসব তথ্য জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তারা।

তবে তহবিলের এই দাবি ঘিরে কংগ্রেসে জোরালো রাজনৈতিক টানাপড়েন শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, এই যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন তেমন জোরালো নয়। পাশাপাশি প্রথম থেকেই এর কড়া সমালোচনা করে আসছেন ডেমোক্র্যাটরা। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা তহবিলের এই অতিরিক্ত দাবির পক্ষে সমর্থন জানালেও, তারা এখনও পর্যন্ত আইনসভায় তা পাশের জন্য কোনও রণকৌশল স্থির করতে পারেননি।

একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ইরান যুদ্ধের খরচ দ্রুত বাড়ছে। শুধু প্রথম সপ্তাহেই এই ব্যয় ১১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

একটি সূত্র বলছে, পেন্টাগনের অস্ত্রের ঘাটতি দ্রুত মেটাতে এবং অনেক ক্ষেত্রে ঝিমিয়ে পড়া প্রতিরক্ষা শিল্পকে চাঙা করতেই একাধিক প্যাকেজের প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে।

ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে থেকেই প্রতিরক্ষা খাতে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার বাজেটের দাবি তুলেছিলেন ট্রাম্প। এই অঙ্কটি গত বছরের তুলনায় অন্তত ৫০ শতাংশ বেশি। তবে নতুন করে চাওয়া এই অতিরিক্ত তহবিল ওই ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের মধ্যেই ধরা হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

সূত্র: সিএনএন; ওয়াশিংটন পোস্ট