গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত সামরিক অভিযান শুরুর প্রায় এক মাস পার হলেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়েছে বলে নিশ্চিত করতে পারছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত পাঁচটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ইরানের মোট ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের আরও এক-তৃতীয়াংশের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। ধারণা করা হচ্ছে, ভূগর্ভস্থ টানেল ও বাংকারে পুঁতে রাখা এসব ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বা চাপা পড়ে গেছে — তবে পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
একটি সূত্র জানিয়েছে, ড্রোন সক্ষমতার ক্ষেত্রেও একই চিত্র — মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংসের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, যুদ্ধ বন্ধ হলে চাপা পড়া বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্রের একটি অংশ পুনরুদ্ধার করতে পারে ইরান।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে দাবি করেন, ইরানের হাতে “খুব কম রকেট অবশিষ্ট আছে”। কিন্তু একই বৈঠকে তিনি স্বীকার করেন, হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো মার্কিন নৌ-অভিযানের জন্য ইরানের অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন এখনো গুরুতর হুমকি।
ট্রাম্পের ভাষায়: “ধরুন আমরা বলছি ৯৯ শতাংশ ধ্বংস করে ফেলেছি। কিন্তু সেই ১ শতাংশও অগ্রহণযোগ্য — কারণ সেই ১ শতাংশ মানে একটি বিলিয়ন ডলারের জাহাজের গায়ে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত।”
পেন্টাগন জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ৯০ শতাংশ কমেছে এবং ৬৬ শতাংশেরও বেশি উৎপাদন ও নৌ-স্থাপনা ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলছে। গত বৃহস্পতিবারই সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১১টি ড্রোন ছুড়েছে ইরান। গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো ভারত মহাসাগরের মার্কিন-ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়ায় দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান।
প্যারিসের সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ নিকোল গ্রাজেউস্কি বলছেন, ইরান এখনো তার মোট সক্ষমতার প্রায় ৩০ শতাংশ ধরে রেখেছে। ভারী বোমা হামলার পরেও বিদ কানেহ সামরিক ঘাঁটি থেকে ইরানের অভিযান অব্যাহত থাকার বিষয়টিকে তিনি এই মূল্যায়নের মূল প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন।
“ইরান এটা টিকিয়ে রাখতে পেরেছে — এটাই প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্র তার অভিযানের সাফল্যকে বাড়িয়ে বলছে,” বলেন তিনি।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ১৯ মার্চ স্বীকার করেন, ইরানের বিস্তৃত ভূগর্ভস্থ টানেল নেটওয়ার্ক এই অভিযানকে অত্যন্ত জটিল করে তুলছে। তাঁর ভাষায়, “গাজায় হামাস যেমন টানেলে লুকিয়ে থাকে, ইরানও তাই করেছে।”
এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা আরও সরাসরি বলেন: “ইরানের কাছে আসলে কত ক্ষেপণাস্ত্র আছে, সঠিক সংখ্যাটা আদৌ কখনো জানা যাবে কি না, আমি নিশ্চিত নই।”
ইসরায়েলি সামরিক সূত্র জানায়, যুদ্ধের আগে ইসরায়েলে আঘাত হানার সক্ষমতাসম্পন্ন আড়াই হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল ইরানের। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ লঞ্চার নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে — তবে বাকি ৩০ শতাংশ নিষ্ক্রিয় করা আরও কঠিন হবে বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা নিজেরাই মানছেন।