গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
পুলিশ বাহিনীতে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ পেতে আবেদন করেছেন সারা দেশের ১ লাখ ২৬ হাজার তরুণ। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও জনবলসংকট কাটাতে সরকারের বিশেষ তৎপরতার মধ্যে এই বিপুল আবেদন জমা পড়েছে। ২ হাজার ৭০৩টি শূন্য পদের বিপরীতে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় প্রতিটি পদের জন্য লড়বেন গড়ে ৪৭ জন প্রার্থী।
পুলিশ সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল আহসান সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে পুলিশের ওপর সাধারণ মানুষের যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠাকেই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নতুন সরকার। জাতির উদ্দেশে দেওয়া নিজের প্রথম ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন। তিনি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের কার্যকারিতা বাড়ানো এবং বাহিনীর ভেতরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই বার্তার পর পুলিশ সদর দপ্তর জনবল বৃদ্ধিতে বিশেষ মনোযোগ দেয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নতুন প্রজন্মের শিক্ষিত ও পেশাদার তরুণদের নিয়োগের মাধ্যমে বাহিনীর ভাবমূর্তিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
পুলিশ সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল আহসান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, কনস্টেবল পদে নিয়োগের আবেদনপ্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এবার ১ লাখ ২৬ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। মূলত শূন্য পদগুলো পূরণ এবং পুলিশের সেবা তৃণমূলে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই নিয়মিত নিয়োগপ্রক্রিয়া পরিচালনা করা হচ্ছে।
পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে জেলাভিত্তিক নিয়োগযোগ্য শূন্য পদের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, দেশের ৬৪ জেলায় মোট ২,৭০৩ জন ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি শূন্য পদ রয়েছে ঢাকা জেলায় ২২৬টি এবং সবচেয়ে কম শূন্য পদ বান্দরবান জেলায় সাতটি।
জেলাভিত্তিক নিয়োগযোগ্য শূন্য পদের সংখ্যা—
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা ও জনবলসংকট
পুলিশের এই নিয়োগের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সরাসরি নির্দেশনায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশের সব পর্যায়ে জনবলসংকটের বিষয়টি সামনে আনেন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এক বৈঠকে তিনি দ্রুত শূন্য পদ পূরণের তাগিদ দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, মাঠপর্যায়ে কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে পুলিশের সব স্তরেই জনবলের অভাব রয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আপাতত ২ হাজার ৭০৩টি কনস্টেবলের শূন্য পদ জরুরি ভিত্তিতে পূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সার্জেন্টের ১৮০টি শূন্য পদেও দ্রুত নিয়োগের ঘোষণা দেন মন্ত্রী। স্নাতক পাস ও কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন তরুণদের সার্জেন্ট পদে নিয়োগের আবেদনের সময় ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।
তদবির ও জালিয়াতি রোধে কঠোর বার্তা
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা রাজনৈতিক তদবির প্রার্থীর অযোগ্যতা হিসেবে গণ্য হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রতিটি স্তরে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। যদি কোনো পর্যায়ে প্রার্থীর দেওয়া তথ্যে জালিয়াতি বা অসত্য কিছু পাওয়া যায়, তবে তাৎক্ষণিক আবেদন বাতিলের পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সী ১ লাখ ২৬ হাজার তরুণ এখন মাঠপর্যায়ের শারীরিক পরীক্ষা ও পরবর্তী ধাপগুলোর প্রস্তুতির অপেক্ষায় রয়েছেন।