সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিচ্ছেন উপস্থাপন

বিএনপি সরকারের প্রথম এই বাজেটের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে– ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’।

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক

নতুন অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেছেন বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদে তিনি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন শুরু করেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জিতে বিএনপি সরকার গঠন করার পর এটাই প্রথম বাজেট।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানও উপস্থিত রয়েছেন।

বিকাল ৩টায় কালো রংয়ের ব্রিফকেস হাতে বাজেট ঘোষণা করতে সংসদ অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সেই ব্রিফকেসেই ছিল বিএনপি সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেটের কাগজপত্র ও অর্থ বিল।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী অধিবেশন কক্ষে প্রবেশের মুহূর্তে আলোকচিত্রীরা ক্যামেরার শাটার টিপতে থাকেন। অধিবেশন কক্ষে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে টেবিল চাপড়ে অর্থমন্ত্রীকে স্বাগত জানান সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনামল এবং চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী তার বাজেরট বক্তৃতার শুরুতেই বলেন, “সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্যই রাজনীতি ও অর্থনীতির পুনর্গঠনের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে আমরা জাতীয় বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নকে কেবলমাত্র সরকারের আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশ না, বরং আমাদের দেশকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পথে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আমাদের অমিত অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপায়ণের পথ-নকশার অংশ হিসেবে বাজেট উপস্থাপন করছি।

“আমাদের প্রস্তাবিত বাজেট হবে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল জীবন নিশ্চিতকরণে সরকারের অভিপ্রায়ের একটি প্রতিফলন।”

সবশেষ ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়ে গিয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন ওই অন্তর্বর্তী সরকার দেড় বছরে একটি বাজেট দিয়েছিল। স্বাধীনতার পর সেবারই প্রথম বাজেটের আকার আগের অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের তুলনায় কমেছিল।

জনজীবনে মূল্যস্ফীতির অবিরাম কষাঘাত আর বিপুল সরকারি ব্যয় মেটানোর চাপের বিপরীতে রাজস্ব আদায়ে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা এখনো কাটেনি। তার ওপর বিশ্ব বাস্তবতা সামনে আনছে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ। তারপরও নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার আগের ছকেই জনতুষ্টির বিশাল বাজেট নিয়ে আসছে, যার আকার বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “দেশের অর্থনীতির ভগ্নদশার পাশাপাশি বৈশ্বিক অস্থিরতায় তৈরি হওয়া নতুন ঝুঁকিসমূহ মোকাবিলার প্রত্যয়কে কেন্দ্রে রেখেই আমরা এবারের বাজেটে-স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও সর্বোপরি ন্যায্যতাকে মূল বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করেছি, সামষ্টিক কৌশল নির্ধারণ করেছি।

“আমরা বিশ্বাস করি, এই পরিকল্পনা ও কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হবে। একই সাথে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের মাধ্যমে জনমিতিক লভ্যাংশ ও দীর্ঘজীবিতা লভ্যাংশর সুযোগ কাজে লাগিয়ে গণতান্ত্রিক লভ্যাংশও অর্জন করবে।”

আমির খসরু বলেন, “সেই লক্ষ্যের আলোকে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি অর্থনীতিতে টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা মানুষের জীবনযাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনতে চাই। এ জন্য সরকার ১০টি প্রধান অগ্রাধিকার বিবেচনায় রেখে বাজেট প্রস্তাব দাঁড় করিয়েছে।”

সেগুলো হল–সবার জন্য উন্নয়ন; সবার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা; সার্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা; বিনিয়োগনির্ভর, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি; বিনিয়ন্ত্রণকরণ এবং সশ্রয়ী ও সহজিকৃত ব্যবসার পরিবেশ; আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা; জাতীয় নিরাপত্তা; তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশ; প্রাণ, প্রকৃতি, পরিবেশ ওপানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা; স্বাচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা।

বিএনপি সরকারের প্রথম এই বাজেটের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে– ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’।