গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত না করার সিদ্ধান্ত এবং শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল বিতর্কের মধ্যেই আত্মপ্রকাশ করেছে ব্যঙ্গাত্মক একটি প্ল্যাটফর্ম— ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’। শিক্ষামন্ত্রীর একটি ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর এই উদ্যোগ ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ফেসবুকে ‘Broiler Chicken Party’ শীর্ষক একটি পেজ খোলা হয়। ‘We are the Broiler Generation; We are not insulted, We are awakened’— এই স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু করা পেজটি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাজারো অনুসারী পেয়ে যায়।
রাত নয়টা নাগাদ পেজটির অনুসারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৬ হাজারে। পেজ পরিচালনাকারীরা এক পোস্টে জানিয়েছেন, এটিই তাদের একমাত্র অফিসিয়াল পেজ এবং বিভাগ বা জেলাভিত্তিক তাদের আলাদা কোনো পেজ নেই।
টানা ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রীর একটি ফোনালাপের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। জানা যায়, রাজধানীর সিটি কলেজের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক হোয়াটসঅ্যাপে মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় সেই কথোপকথন আরেকটি মুঠোফোনে ধারণ করা হয়েছিল।
ওই ভিডিওতে পরীক্ষার্থীদের অসুস্থতা প্রসঙ্গে মন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, শিক্ষার্থীরা এতটাই দুর্বল যে সামান্য বৃষ্টিতে ভিজলেই তাদের জ্বর চলে আসে— এমন এক তুলনা তিনি টানেন, যা পরবর্তীতে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। একই আলাপে মন্ত্রী দাবি করেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি পরীক্ষা স্থগিতের পক্ষে থাকলেও জেলা প্রশাসন, শিক্ষা বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামতের ভিত্তিতেই পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর মন্তব্যটিকে অবমাননাকর আখ্যা দিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই ঢাকার সায়েন্সল্যাব, শাহবাগ ও উত্তরাসহ দেশের একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও ওঠে, পাশাপাশি প্রতিবাদী স্লোগানও শোনা যায় শিক্ষার্থীদের মুখে। পরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর ও বরিশালেও একই দাবিতে কর্মসূচি পালিত হয়।
নতুন এই পেজে শিক্ষার্থী আন্দোলনের ছবি, ভিডিও এবং বিভিন্ন কর্মসূচির হালনাগাদ তথ্যের পাশাপাশি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট ও হ্যাশট্যাগ-নির্ভর নানা কনটেন্ট প্রকাশিত হচ্ছে। পেজের প্রোফাইল ছবিটিও প্রকাশের পরপরই শতাধিকবার শেয়ার হয়ে দ্রুত আলোচনায় চলে আসে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে মনে করছেন, এই প্ল্যাটফর্মটি ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আদলে গড়ে তোলা হয়েছে। গত মে মাসে ভারতের এক বিচারপতির মন্তব্যকে ঘিরে শুরু হওয়া সেই উদ্যোগও পরবর্তীতে তরুণদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরার একটি প্রতীকী মঞ্চে রূপ নিয়েছিল।