নিজস্ব সংবাদদাতা
কালীগঞ্জে এক গরু ব্যবসায়ীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠার চারদিন পর অভিযুক্ত উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে কাপাসিয়া থানার আড়াল তদন্ত কেন্দ্রে বদলি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মোঃ শরিফ উদ্দিন স্বাক্ষরিত ২২০৭/আরও নম্বর স্মারকে এই বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদেশে বলা হয়েছে, বদলিকৃত ইউনিটে যোগদানের উদ্দেশ্যে পার্সোনেল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (পিআইএমএস) মাধ্যমে ছাড়পত্র দেয়ার নির্দেশ দেয়া হলো।
তবে আদেশে বদলির সুনির্দিষ্ট কোন কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
এর আগে গত রবিবার (১২ জুলাই) রাতে কালীগঞ্জের জামালপুর এলাকার বাসিন্দা, ডেইরি ফার্ম ব্যবসায়ী তথা গরু বিক্রেতা বাদল মোড়লের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠে এসআই মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে।
ঘটনার পর বিস্তারিত জানিয়ে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন ওই ব্যবসায়ী, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
বাদল মোড়লের দাবি, জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে গরু ক্রয়-বিক্রয়ের বৈধ ট্রেড লাইসেন্স তার রয়েছে। গত রবিবার সিলেটের বিভিন্ন হাট থেকে তিনি ৩৮টি গরু কেনেন, যার ক্রয়-রশিদও তার কাছে সংরক্ষিত আছে। ওইদিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার দিকে ট্রাকযোগে গরুগুলো কালীগঞ্জের জামালপুর এলাকার বালুয়াভিটায় পৌঁছালে খামারে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। ঠিক সেই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন কালীগঞ্জ থানার এসআই মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
বাদল মোড়লের ভাষ্যমতে, এসআই মিজানুর প্রতিটি গরুর বিপরীতে ১ হাজার টাকা করে দাবি করেন এবং টাকা না দিলে গরুগুলো থানায় নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন। ক্রয়-রশিদ ও ট্রেড লাইসেন্স দেখানোর পরও ওই পুলিশ কর্মকর্তা কাগজপত্র ভুয়া বলে দাবি করে টাকার জন্য চাপ অব্যাহত রাখেন বলে অভিযোগ।
একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে দরকষাকষির পর ১০ হাজার টাকা দিয়ে সমঝোতা করেন তিনি।
অপরদিকে অভিযুক্ত এসআই মোহাম্মদ মিজানুর রহমান টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি স্বাক্ষী দিতে পাবনায়, রাস্তায় আছি। কাল কল দিয়েন।