মোদীর বাসভবনের সামনে ধরনায় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব, দাবি প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের

পুলিশ তাঁদের জায়গা ছাড়তে অনুরোধ করলেও তাঁরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। প্রশ্নফাঁসের দায় স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগই তাঁদের একমাত্র দাবি বলে জানান তিনি।

মোদীর বাসভবনের সামনে ধরনায় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব, দাবি প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

ভারতে ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়াকে কেন্দ্র করে অভূতপূর্ব এক রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে।

এর জেরে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের সামনেই ধরনায় বসে পড়েন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাড্রাসহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা।

তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কে সি বেণুগোপাল, কেরালার মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন এবং কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারও।

আগের দিন সোমবার, প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে সংসদ অভিমুখী ছাত্র মিছিলে পুলিশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদেই পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই কংগ্রেস নেতারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর ৭ লোক কল্যাণ মার্গের বাসভবনের সামনে হাজির হন, যা নিরাপত্তা বাহিনীকেও হকচকিয়ে দেয়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই একে একে দলীয় কর্মী-সমর্থকরাও সেখানে জড়ো হতে থাকেন এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান তোলেন।

দলীয় সাংসদ সৈয়দ নাসির হুসেনের দাবি, পুলিশ তাঁদের জায়গা ছাড়তে অনুরোধ করলেও তাঁরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। প্রশ্নফাঁসের দায় স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগই তাঁদের একমাত্র দাবি বলে জানান তিনি।

কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সেরে ফিরে যান। সূত্র বলছে, সরকার বুধবারই আলোচনায় বসতে রাজি বলে বার্তা দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী তিনজনেরই পদত্যাগ চেয়ে অনড় থাকে কংগ্রেস।

খবর পেয়ে দিল্লি পুলিশের বিশাল বহর এক ঘণ্টার মধ্যে এলাকায় পৌঁছালে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ নিয়ে বিজেপির অভিযোগ, এই জমায়েত প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ— যা কংগ্রেস অস্বীকার করে দাবি করে, তাদের অবস্থান সম্পূর্ণ অহিংস।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া পোস্টে রাহুল গান্ধী সরকারকে জবাবদিহি এড়ানো ও সংসদীয় বিতর্ক এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ তোলেন এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ বিপন্ন করার দায়ে প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। পরে আরেকটি বার্তায় ছাত্রদের ওপর হামলাকে গোটা জাতির পরিবারগুলোর ওপর আঘাত বলে অভিহিত করে তিনি জনগণকে আন্দোলনে শামিল হওয়ার ডাক দেন।

কংগ্রেস নেতা মানিক্কম ঠাকুরের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত সংসদে এলেও অধিবেশন কক্ষে বসছেন না বলেই তাঁদের এই পথ বেছে নিতে হয়েছে।

জানা গেছে, সোমবারই লোকসভার স্পিকারের কাছে আলোচনার আর্জি নিয়ে গিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী, কিন্তু কোনো সদুত্তর না পেয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অন্যান্য শরিক দলের নেতারাও অংশ নেন— যাঁদের মধ্যে ছিলেন এনসিপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে ও আন্দোলনকর্মী যোগেন্দ্র যাদব।

মূল বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে। তরুণ সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ডাকে সোমবার হাজার হাজার শিক্ষার্থী যন্তরমন্তর এলাকায় জড়ো হন এবং সংসদ ভবনের কাছাকাছি পৌঁছে যান— যদিও কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই কয়েক স্তরের ব্যারিকেড, প্রায় তিন হাজার নিরাপত্তাকর্মী ও ইন্টারনেট বন্ধের ব্যবস্থা নিয়েছিল। শেষমেশ পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জের আশ্রয় নিতে হয়।