নিজস্ব সংবাদদাতা
কালীগঞ্জে দুইটি বালুর গদিতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হানা দিয়ে এক ব্যবসায়ীকে মারধর ও জিম্মি করে নগদ টাকা এবং ড্রেজারে মজুত রাখা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল লুট করে নিয়ে গেছে একদল দস্যু। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কালীগঞ্জ থানা পুলিশ।
সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে কালীগঞ্জ উপজেলার তুমুলিয়া ইউনিয়নের সোম বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে।
দুর্বৃত্তদের আঘাতে আহত বালু ব্যবসায়ীর নাম মঞ্জুর হোসেন (৬০)। তিনি সোম বাজার এলাকার মৃত মমতাজ উদ্দিনের ছেলে।
আহত ব্যবসায়ীর ভগ্নিপতি আওলাদ হোসেন ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শীতলক্ষ্যা নদী পথে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে রূপগঞ্জের দিক থেকে অজ্ঞাত ২০-২৫ জনের একটি দস্যুদল মঞ্জুর হোসেনের বালুর গদির পাশে ট্রলার নোঙর করে। প্রথমে তারা নিরাপত্তাকর্মী আকবর হোসেনকে (৭০) বেঁধে ফেলে। এরপর তাকে দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে অফিসকক্ষে ঘুমিয়ে থাকা মঞ্জুর হোসেনকে ডেকে তোলা হয়। তিনি দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ৮-১০ জন দস্যু ভেতরে ঢুকে তাকে মারধর শুরু করে এবং দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ক্যাশ বাক্সের চাবি কেড়ে নেয়। সে সময় ক্যাশ বক্সে থাকা দিনভর ও রাতে বালু বিক্রির কয়েক লাখ টাকা, ব্যবহৃত কয়েকটি মোবাইল ফোন লুট এবং সিসি ক্যামেরার ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার (ডিভিআর) খুলে নেয় দস্যুরা।
গদিতে লুটপাট শেষে তারা নদীতে থাকা অনলোড ড্রেজারে যায়। সেখানে থাকা চারজনের হাত-পা বেঁধে ড্রামে মজুত রাখা লাখ টাকারও বেশি মূল্যের জ্বালানি তেল ড্রামসহ ট্রলারে তুলে নেয়।
একই সময়ে পাশের আরেকটি বালুর গদিতেও হানা দেয় দস্যুরা। সেখানকার ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেনকে (৫০) মারধর করে নগদ ২০-২৫ হাজার টাকা, মোবাইল ফোন লুট এবং সিসি ক্যামেরার ডিভিআর খেলে নেয় দস্যুরা এবং ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেনকে জিম্মি করে ট্রলারে তুলে নেয়া হয়। লুটপাট শেষে ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বৃত্তরা রূপগঞ্জের দিকে রওনা দেয় দস্যুরা। কিছু দূর যাওয়ার পর দেলোয়ার নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে তীরে ওঠেন এবং স্থানীয়দের বিষয়টি জানান। পরে স্থানীয়রা মঞ্জুর হোসেনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার চিকিৎসা চলছে।
লুটের সময় ভেতরে যখন দস্যুরা তল্লাশি চালাচ্ছিল, বাইরে দলের অন্য সদস্যরা পাহারায় ছিল। দস্যুদের বয়স আনুমানিক ৩০ বছরের বেশি বলে জানা গেছে, এবং তাদের অনেকের মুখে মাস্ক ও মুখোশ ছিল।
খবর পেয়ে ভোরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কালীগঞ্জ থানা পুলিশ।
স্থানীয় একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করেছে, ঘটনার আগের দিন সন্দেহভাজন কয়েকজনকে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছিল। সূত্রটির দাবি, তারা শ্রীপুর থেকে এসেছিল এবং এ ঘটনায় স্থানীয় কোনো চক্রের সঙ্গে দস্যু দলের যোগসাজশ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে রাত পর্যন্ত ভুক্তভোগীরা কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।