গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েনে শুরু হয়েছে তৃতীয় জলবায়ু ও পানি গোলটেবিল বৈঠক এবং এশিয়ান ওয়াটার পার্লামেন্টারি কনফারেন্সের (এএডব্লিউসি) নবম সভা।
লাওস জাতীয় সংসদের আয়োজনে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিয়েছেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন।
সম্মেলনে ফজলুল হক মিলন এএডব্লিউসির সভাপতি এবং সংস্থাটির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সদস্যদেশ থেকে আসা প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এবং এশিয়া অঞ্চলে পানিসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনায় আইনসভা পর্যায়ের সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়ানোই তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনের লক্ষ্য।
সম্মেলনে অতিথি হিসেবে ছিলেন লাও জাতীয় সংসদের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিলাইভং বুদ্দাখাম এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সংসদ সদস্য ও এএডব্লিউসির সভাপতি হান জিয়ং-আয়ে। এ ছাড়া এএডব্লিউসিভুক্ত দেশগুলোর সংসদ সদস্য, লাওস ও দক্ষিণ কোরিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, কূটনীতিক ও বিশেষজ্ঞরাও যোগ দেন।

সম্মেলনে ফজলুল হক মিলন
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিলাইভং বুদ্দাখাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জ্বালানি সংকটের কারণে বিশ্ব ও এই অঞ্চল এখন গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে। ২০১৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতায় গঠিত এএডব্লিউসি আইনসভা, সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে পানি ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত আইন ও নীতি বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভিলাইভং বুদ্দাখাম জানান, লাওসের প্রায় ৯০ শতাংশ ভূখণ্ড মেকং নদীর অববাহিকায়। প্রতিবছর দেশটিতে প্রাকৃতিকভাবে ৩৩৪ ঘনকিলোমিটার পানি প্রবাহিত হলেও অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে প্রকৃতপক্ষে ব্যবহার হয় মাত্র ১১ শতাংশ। এই ঘাটতি মোকাবিলায় লাও জাতীয় সংসদ ২০৪০ সাল পর্যন্ত একটি দূরদর্শী পরিকল্পনা এবং ২০৩০ সাল পর্যন্ত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহার-সংক্রান্ত জাতীয় কৌশল অনুমোদন করেছে। পানি আইনের বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করে সমতাভিত্তিক ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি, ২০৩০ সালের মধ্যে ৬০ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং ২০৫০ সালের মধ্যে শূন্য নিঃসরণে পৌঁছানোর সরকারি লক্ষ্যকেও সমর্থন জানানো হচ্ছে।

সম্মেলনে বিভিন্ন সদস্যদেশ থেকে আসা প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফজলুল হক মিলন।
বক্তব্যের শেষাংশে ভিলাইভং বুদ্দাখাম এএডব্লিউসিভুক্ত দেশ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতকে পানি শোধন ও পুনর্ব্যবহার প্রযুক্তি বিনিময়ে আরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-৬ (বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন) বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।