গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও বাজারজাত করার অনুমতি চেয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের আবেদনের পর তড়িঘড়ি করে বেসরকারি খাতের জন্য এই বাজার খুলে দেওয়ার নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
সরকার বলছে, বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
প্রস্তাবিত নীতিমালা নিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘অনুমান নির্ভর ও অসত্য তথ্য’ প্রকাশ করা হচ্ছে বলে শনিবার (০৮ অগাস্ট ) মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে নীতিমালার খসড়া তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
“এই নীতিমালার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই।”
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখা এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য দাবি করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একটি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলাও এর লক্ষ্য।
বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড গত ২৪ মে সরকারের কাছে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির আবেদন করে।
এরপর ২ জুলাই এ বিষয়ে মতামতের জন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসিতে পাঠায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
এর এক মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে বিপিসিকে ‘বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিপূর্বক সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এই খসড়া নীতিমালাসহ সংশ্লিষ্ট সব নথি প্রকাশ করা এবং অন্তত ৬০ দিনের মধ্যে জনমত গ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
শনিবার জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ বিষয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ ও বক্তব্য তুলে ধরেন।
পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুদ ও বিপণন বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিলে তা ‘লুটপাটের নতুন লাইসেন্স’ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে জরুরি বা সংকটের সময় সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অবকাঠামো ও বিনিয়োগ কাজে লাগানোর পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তরফে।
জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিয়ে নীতিমালা চূড়ান্ত করার কথাও বলেছে সরকার।
“জনস্বার্থ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিযোগিতামূলক বাজার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হলেই এ ধরনের নীতিমালা করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।”
বসুন্ধরার আবেদনে কি ছিল?
বড় পরিমাণে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও নিজস্ব ব্যবস্থায় বাজারজাত করার অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছে বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড।
বসুন্ধরার গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীর এ চিঠিতে সই করেন, যিনি এখন আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (এবিজি) চেয়ারম্যান।
কোম্পানিটি বছরে ১৫ লাখ থেকে ২০ লাখ টন ডিজেল আমদানির সুযোগ চেয়েছে। এর সঙ্গে দুই লাখ টন পর্যন্ত অকটেন, দেড় লাখ টন পেট্রোল এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টন ফার্নেস অয়েল আমদানির প্রস্তাব করেছে তারা।
সর্বোচ্চ পরিমাণ হিসাব করলে বছরে ৩৩ লাখ ৫০ হাজার টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সুযোগ চেয়েছে তারা।
জ্বালানি বিভাগ ২ জুলাই বসুন্ধরার আবেদনটি বিপিসিতে পাঠিয়ে প্রচলিত আইন ও বিধির আলোকে পরীক্ষা করে মতামত দিতে বলে। এরপর ১৪ জুলাই ১১ সদস্যের একটি কমিটি করে বিপিসি।
কমিটিকে বসুন্ধরার কারিগরি সক্ষমতার পাশাপাশি আবেদনের আরও কয়েকটি দিক পরীক্ষা করতে বলা হয়। এর মধ্যে ছিল আইনি বিষয়, বিপুল পরিমাণ আমদানির প্রভাব, সরকারি তেল বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং সরকারের রাজস্ব।
সংরক্ষণ ও বিতরণ সক্ষমতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজার থাকবে কি না, সেটিও পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয় কমিটিকে।
এসব বিষয় পরীক্ষা করে সুপারিশ দিতে কমিটিকে দুই কর্মদিবস সময় দেওয়া হয়েছিল। এরপর অগাস্টের প্রথম সপ্তাহে বিপিসিকে নতুন নীতিমালার খসড়া তৈরির নির্দেশ দেয় জ্বালানি বিভাগ। ১০ অগাস্টের মধ্যে খসড়া জমা দিতে বলা হয়েছিল।
সূত্র: বিডিনিউজ