গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর পর লঞ্চের ভাড়া সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল সংস্থা।
সংগঠনটি ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৪৫ পয়সা এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে ২ টাকা ৫২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ২ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে দেওয়া এক চিঠিতে সংগঠনটির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর এ প্রস্তাব দেন।
চিঠিতে বলা হয়, ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ালে তা ৫১ শতাংশ এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে একই হারে বাড়ালে ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়বে। একই সঙ্গে যাত্রীপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া ৩২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
চিঠির তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার রাতে সরকার ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করেছে। এতে জ্বালানি ব্যয় প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চগুলো ডিজেল ও মবিলচালিত হওয়ায় পরিচালন ব্যয় সরাসরি বাড়বে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
সংগঠনটির দাবি, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বিভিন্ন ফি ও চার্জ আগেই বেড়েছে। এর মধ্যে কনজারভেন্সি চার্জ ৩০ শতাংশ, রুট পারমিট ফি ৫০ শতাংশ, বার্থিং চার্জ ১১৪ শতাংশ এবং রুট পারমিটের আবেদন ফরমের ফি ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
এ ছাড়া নৌযানের বিশেষ অনুমতি, স্থগিত রুট পারমিট পুনর্বহাল, মালিকানা ও নাম বা রেজিস্ট্রেশন পরিবর্তনের ফি এবং শ্রমিকদের মজুরি, সার্ভে, রেজিস্ট্রেশন ফি, আয়কর ও ভ্যাট বেড়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
লঞ্চের যন্ত্রাংশ, রং, ডকিং ও পরিচালন ব্যয় ক্ষেত্রবিশেষে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে লঞ্চমালিকদের সংগঠনটি দাবি করেছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির কারণে যাত্রী সংখ্যা কমেছে এবং মালিকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এই অবস্থায় লঞ্চ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ভাড়া বাড়ানোর অনুমোদন অথবা ডিজেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
সূত্র: টাইমস অব বাংলাদেশ