গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
ইরান হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিলে তেহরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক পারমাণবিক চুক্তির দাবি ছেড়ে দিতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ এ খবর জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানকে একটি চূড়ান্ত পারমাণবিক চুক্তি করতে চাপ দেওয়ার বদলে তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়াকেই ওই অঞ্চলে সামরিক অভিযান শেষ করা এবং বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ভিত্তি হিসেবে মেনে নিতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ জানায়, ট্রাম্প বেশ কিছুদিন ধরেই এমন একটি সিদ্ধান্তের জন্য পট প্রস্তুত করছেন। তেহরানের কাছ থেকে নতুন কোনও পারমাণবিক চুক্তি না করেই তিনি যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন বলে জ্যেষ্ঠ সহযোগীদের কাছে ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
তবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিনিময়ে তেহরান একগুচ্ছ কঠিন শর্ত বেঁধে দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, কোটি কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়া, মার্কিন নৌ অবরোধের অবসান, পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া।
ইরানের এসব শর্তের কারণে ওয়াশিংটনের সামনে কূটনৈতিক পথ সংকুচিত হয়ে এসেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, তেহরানের এই অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে, তারা দ্রুত কোনও সমঝোতার বদলে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে তেহরানের অন্যতম শক্তিশালী দরকষাকষির হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে এই প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত করায় বিশ্ববাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই জলপথটি অবরুদ্ধ করে ইরান।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র দেশগুলোর যুদ্ধজাহাজ চলাচল বন্ধের পাশাপাশি এই জলপথ ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কাছ থেকে মাশুল আদায়ের চেষ্টা করছে ইরান। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এসব বিধিনিষেধ ও মাশুল আদায়ের চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
পেট্রোলিয়ামের দাম ও ট্রাম্পের ওপর চাপ
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি একাধিকবার দাবি করেছেন যে, হরমুজ প্রণালি ইতিমধ্যেই পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। তবে তার এসব দাবি বাস্তবতার সঙ্গে মেলেনি এবং তা অপরিপক্ব হিসেবেই প্রমাণিত হয়েছে।
ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এখনও পেট্রোলের দাম স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি।
তার ওপর তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ফলে ভোটারদের কাছে এই সামরিক অভিযানের উদ্দেশ্য সফল হয়েছে, সেটি প্রমাণের জন্য ট্রাম্পের ওপর তীব্র রাজনৈতিক চাপ রয়েছে।