শ্রীপুরে অটোরিকশা চালককে পিটিয়ে হত্যা

টাকা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন রুহুল আমিনকে পিটিয়ে হত্যা করেন।

শ্রীপুরে অটোরিকশা চালককে পিটিয়ে হত্যা

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক 

শ্রীপুর উপজেলার কুমারভিটা এলাকায় এক অটোরিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে নিহতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত ব্যক্তির নাম রুহুল আমিন (৩৮)। তিনি শ্রীপুর উপজেলার কায়েতপাড়া এলাকার আতাহার আলীর ছেলে এবং পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী হালিমা খাতুন (৩৫), শ্বশুর রফিক (৫৫), শ্যালক শাহজাহান (২৭), চাচাশ্বশুর তাজউদ্দীন (৫০) এবং কন্যা রিমিকে (১৬) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, কুমারভিটা এলাকার রফিক মিয়ার মেয়ে হালিমা খাতুনকে বিয়ে করেছিলেন রুহুল আমিন। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে থেকেই অটোরিকশা চালাতেন তিনি।

এক পর্যায়ে একটি এনজিও থেকে ঋণ নেন রুহুল আমিন, যা তিনি পরিশোধ করতে পারছিলেন না। এর জেরে এনজিওর লোকজন তার শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের ওপর টাকা পরিশোধের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।

অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার গভীর রাতে এই টাকা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন রুহুল আমিনকে পিটিয়ে হত্যা করেন। পরে লাশ বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয় এবং এলাকায় রটিয়ে দেওয়া হয় যে জঙ্গলে রুহুলের লাশ পড়ে আছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

রুহুল আমিনের ছোট বোন ফাতেমা খাতুন অভিযোগ করেন, সুপরিকল্পিতভাবে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর ভাইকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে পরে লাশ জঙ্গলে ফেলে দেন। তাঁর দাবি, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতেই একটি নাটক সাজানো হয়েছিল।

শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, নিহতের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে থানায় আনা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।