গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
‘চিকেনস নেক’ হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোরে ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের মহাসড়ক নির্মাণে ২ হাজার কোটি রুপি বরাদ্দ দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।
মহাসড়কটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘জাতীয় মহাসড়ক ২৭’ এর একটি অংশের সমান্তরালে নির্মাণ করা হবে বলে শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকার মনে করছে, নতুন এই মহাসড়ক নির্মাণের ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যের সঙ্গে দেশটির বাকি অংশের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে।
‘চিকেনস নেক’ ভৌগলিকভাবে নেপাল ও বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেঁষে এগিয়েছে। চীন ও ভুটানের সীমান্তও এই করিডোরের খুব কাছাকাছি অবস্থিত।
বৃহস্পতিবার ফেইসবুক পোস্টে সেখানে সড়ক নির্মাণে অর্থ বরাদ্দের কথা জানান ভারতের কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নিতিন গড়করি।
তিনি বলেন, মহাসড়কটি পানিটাঙ্কি ও খড়িবাড়ি হয়ে বাগডোগরা থেকে বিহারের গালগালিয়া পর্যন্ত যাবে। এর দৈর্ঘ্য হবে ৩১ দশমিক ০২ কিলোমিটার; নাম হবে ‘জাতীয় মহাসড়ক-৩২৭’ বা ‘এনএইচ-৩২৭’। ‘এনএইচ-২৭’ এর সঙ্গে ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরত্ব বজায় রেখে এটি নির্মাণ করা হবে।
গালগালিয়ার অবস্থান বিহারের কিশানগঞ্জ জেলায়। অন্যদিকে পানিটাঙ্কি অবস্থিত দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়িতে, যা নেপালে যাতায়াতের বহুল ব্যবহৃত একটি পথ।
‘চিকেনস নেকের’ দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০ কিলোমিটার। এর সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার। ভারতের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত নিরাপত্তার জন্য এই করিডোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গড়করি লিখেছেন, “প্রকল্পটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করবে এবং নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের দিকে যাতায়াতের সুযোগও বাড়াবে।”
এ প্রকল্পের আওতায় তিনটি বড় সেতু, একটি ওভারব্রিজ, হাতি চলাচলের জন্য পাঁচটি আন্ডারপাস এবং নতুন মহাসড়কের দুই পাশে সার্ভিস লেন নির্মাণ করা হবে।
টেলিগ্রাফ লিখেছে, গত দুই বছরে, বিশেষ করে ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর চিকেন নেকের প্রতিরক্ষা স্থাপনা ও অবকাঠামো শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার।
এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি বারাণসী থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত একটি উচ্চগতির রেল করিডোর এবং শিলিগুড়ির কাছে ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে নয়া দিল্লি। এছাড়া মালদা থেকে এনজেপি পর্যন্ত আরেকটি রেলপথ স্থাপনেরও অনুমোদনও দিয়েছে রেল মন্ত্রণালয়।