জ্বালানি তেলের দাম বিশ্ববাজারে বাড়লে দেশেও চাপ সইতে হয়: বাণিজ্যমন্ত্রী

“সরকার ভোক্তার ওপর পুরো চাপ একবারে না দিয়ে একটি অংশ বহন করলে শেষশেষ তা রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থার উপরেই পড়ে,” বলেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

জ্বালানি তেলের দাম বিশ্ববাজারে বাড়লে দেশেও চাপ সইতে হয়: বাণিজ্যমন্ত্রী

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যের দাম বাড়লে দেশের অর্থনীতিকেও সেই চাপ ‘বহন করতে হয়’ বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

দেশে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর পর মন্ত্রীর তরফ থেকে এ বক্তব্য এল।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাজার পরিস্থিতি বিষয়ক পর্যালোচনা সভায় মন্ত্রী বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে দেশকেও এর অর্থনৈতিক চাপ বহন করতে হয়।

“সরকার ভোক্তাদের ওপর পুরো চাপ একবারে না দিয়ে একটি অংশ বহন করলে শেষ পর্যন্ত তা রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থার উপরেই পড়ে। তাই জ্বালানির দক্ষ ও সাশ্রয়ী ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

এক্ষেত্রে বাজার ও ব্যবসা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে বিদ্যমান কর কাঠামোর বিভিন্ন দিকও পর্যালোচনা করা হবে।

“পাশাপাশি দেশে উৎপাদিত পণ্য এবং যেসব পণ্যের ঋণপত্র বা এলসি ইতোমধ্যে খোলা হয়েছে কিংবা যেগুলো জাহাজীকরণ পর্যায়ে রয়েছে, সেগুলোর তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।”

রোববার রাত ১২টা থেকে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে দেয় সরকার। নতুন দর অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ নিয়ে গত ছয় মাসে তিন দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল সরকার।

এমন পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাজার নজরদারি আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “বাজারে কোনো ধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দেওয়া হবে না। কেউ বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ালে বা অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”

বাজারে পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা তুলে ধরতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, গ্যাস সরবরাহে বিঘ্নের কারণে বিভিন্ন শিল্পের উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। পণ্য পরিবহনেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টিসহ প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাবও কয়েকটি এলাকায় বাজারে পড়েছে।

সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পক্ষ থেকে নিত্যপণ্যের চাহিদা, আমদানি, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতির একটি চিত্র তুলে করা হয়। এতে বলা হয়, গত বছরের তুলনায় দেশে নিত্যপণ্যের আমদানি ও এলসি খোলার পরিস্থিতি ইতিবাচক।

সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।