মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জেতাতে ইলন মাস্কের ৩৬৬ মিলিয়ন ডলার খরচ

গত জুলাই থেকে মাস্ক ২৭৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন।

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জেতাতে ইলন মাস্কের ৩৬৬ মিলিয়ন ডলার খরচ

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমর্থক ইলন মাস্ক গত বছর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টিকে সহায়তা করতে প্রায় ৩৬৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। 

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস সোমবার প্রথম এ খবর প্রকাশ করে। পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু গত জুলাই থেকে মাস্ক ২৭৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন। এর মধ্যে ১৫৮ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছে রিপাবলিকানদের সিনেট প্রার্থীদের সহায়তায় গঠিত একটি বিশেষ রাজনৈতিক তহবিলে। এর ফলে চলতি বছরে একক ব্যক্তি হিসেবে সবচেয়ে বেশি অর্থ দানকারী হয়ে উঠেছেন তিনি।

মাস্ককে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ট্রাম্প রিপাবলিকান পার্টির নেতা। গত বছর হোয়াইট হাউসের বিশেষ সরকারি উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন মাস্ক।

মাস্কের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অর্থায়নকারী সংস্থা ‘আমেরিকা পিএসি’ এই ব্যয়ের পরিমাণ নিশ্চিত করেছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটির একজন মুখপাত্র বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়া ঠেকাতে এই বিপুল অর্থ ব্যয় প্রয়োজন।

সংস্থাটির মুখপাত্র অ্যান্ড্রু রোমিও দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-কে বলেন, ‘এই বিপুল বিনিয়োগের ফলে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারযন্ত্র নিজেদের বক্তব্য ভোটারদের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছে। এতে অতীতের নির্বাচনী প্রবণতা ভুল প্রমাণ করে জয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।’

মাস্কের এই বিপুল অর্থ ব্যয়ের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন রিপাবলিকান প্রার্থীরা ট্রাম্পের কমে যাওয়া জনপ্রিয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগ মোকাবিলা করছেন।

ট্রাম্পের শাসনামল নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে চাইছে ডেমোক্র্যাটরা। বর্তমানে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে রিপাবলিকানদের।

ধনী অর্থদাতা ও বিশেষ রাজনৈতিক তহবিলের প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা রয়েছে। সমালোচকদের যুক্তি, এ ধরনের অর্থ ব্যয়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি প্রভাবশালী ও বিত্তশালী গোষ্ঠীগুলোর স্বার্থের পক্ষে ঝুঁকে পড়ে।

গত জুনে বিশ্বের প্রথম এক ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক হন মাস্ক। তার মহাকাশযান প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স নাসডাক শেয়ারবাজারে প্রথমবারের মতো শেয়ার ছাড়ার পর তার সম্পদের পরিমাণ এই পর্যায়ে পৌঁছায়।

এর আগে এই প্রযুক্তি উদ্যোক্তা বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে তার সম্পৃক্ততা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। গত মে মাসে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি যথেষ্ট করেছি।’ বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের নতুন কোনো উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনাও তার নেই বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

তবে নিজের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এবং বিপুল সম্পদ কাজে লাগিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ডানপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিয়ে আসছেন মাস্ক।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গত বছর জার্মানির রাজনীতিবিদেরা দেশটির জাতীয় নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করার জন্য মাস্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি ‘অলটারনেটিভ ফর জার্মানি’ বা এএফডি পার্টির একজন সোচ্চার সমর্থক। দলটির বিরুদ্ধে অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে বৈষম্যমূলক অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দিতে যাবেন। এ নির্বাচনে কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্ধারণের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় রিপাবলিকানদের আর্থিক সুবিধা উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে ট্রাম্পপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিপুল অর্থ ব্যয়। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে ‘মাগা ইনকরপোরেটেড’ নামের একটি বিশেষ রাজনৈতিক তহবিল। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা ‘আমেরিকাকে আবার মহান করে তোলার’ আন্দোলনের নাম অনুসারে এই তহবিলের নামকরণ করা হয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, গত আগস্ট পর্যন্ত ‘মাগা ইনকরপোরেটেড’-এর তহবিলে ৪১৬ মিলিয়ন ডলার ছিল। নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘অ্যাডইমপ্যাক্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসেই তহবিলটি ২২ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। টেক্সাসে সিনেটের একটি শূন্য আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে প্রার্থীদের প্রচারে এই অর্থ ব্যয় করা হয়।

ট্রাম্পও তার নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম বাড়িয়েছেন। নির্বাচনের শেষ কয়েক সপ্তাহে রিপাবলিকানদের বক্তব্য ভোটারদের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন।

তবে ডেমোক্র্যাটরা মনে করছেন, অর্থ ব্যয়ে রিপাবলিকানদের এগিয়ে থাকা ট্রাম্পের প্রতি ভোটারদের বাড়তে থাকা অসন্তোষের প্রভাব কাটিয়ে ওঠার জন্য যথেষ্ট হবে না।

ডেমোক্র্যাটদের সিনেট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করা রাজনৈতিক তহবিল ‘সিনেট মেজরিটি পিএসি’-এর মুখপাত্র লরেন ফ্রেঞ্চ বলেন, ‘রিপাবলিকানরা মনে করছেন, অর্থ ঢেলে এই নির্বাচনগুলো কিনে নেওয়া সম্ভব। নিজেদের অজনপ্রিয় প্রার্থী, অজনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট এবং অজনপ্রিয় অর্থনীতির নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে উঠতে তারা বিভিন্ন নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কোটি কোটি ডলার ঢালছেন।’