গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ থেকে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, সাংবাদিকসহ আহত ৫; আসামি প্রায় ৪ হাজার

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, জেলা ও মহানগর পুলিশের সঙ্গে শিল্প পুলিশ কাজ করছে।

গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ থেকে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, সাংবাদিকসহ আহত ৫; আসামি প্রায় ৪ হাজার

বিশেষ প্রতিনিধি

গাজীপুরে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ সোমবার (০২ নভেম্বর) আবারো সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি স্থানে মহাসড়ক অবরোধ করেন, পুলিশের গাড়িতে আগুন দেন এবং যানবাহন ভাঙচুর করেন বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

সংঘর্ষে একজন বিজিবি সদস্য ও চার সংবাদকর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ তিনটি মামলা করেছে, যাতে প্রায় চার হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ, শ্রমিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল থেকে বিভিন্ন সময়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর ও চন্দ্রার পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া, গাছা ও সালনায় শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে আসেন।

এতে এসব সড়কে কার্যত যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অনেক যানবাহনকে বিকল্প পথে যেতে দেখা গেছে। বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটপাটকেলে কয়েকটি গাড়ির কাচ ভেঙেছে।

বিজিবি, থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশের সদস্যরা তাদের সরাতে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। বেলা ১১টার দিকে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার সময় ইটের আঘাতে একজন বিজিবি সদস্য আহত হন।

দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরের নাওজোড় এলাকায় পুলিশের একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার শেল ছোড়ে।

ওই এলাকায় সংবাদ সংগ্রহের সময় সময় টিভির প্রতিবেদক মেহেদী হাসান ও তার ক্যামেরাপারসনের ওপর হামলা হয়। ভাঙচুর করা হয় সময় টিভির ক্যামেরাও। 

এখন টিভির প্রতিবেদক ইফতেখার রায়হান সাংবাদিকদের জানান, ছবি তোলার সময় লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। হেলমেট পরা থাকায় তিনি গুরুতর আঘাত থেকে রক্ষা পান।

এর আগে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ইটের আঘাতে এসএ টিভির ক্যামেরাপারসন রেজা ইসলাম আহত হন। সাংবাদিকদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে গাজীপুর প্রেসক্লাব।

দুপুরের পর নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে দুই সড়কেই যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। এর দুটি করেছে শিল্প পুলিশ এবং একটি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। এসব মামলায় প্রায় চার হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।

শিল্পাঞ্চল-২ (গাজীপুর) পুলিশের সুপার মো. আমজাদ হোসেন সংবাদ মাধ্যমকে জানান, এ পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভের কারণে গাজীপুরের দেড় শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, জেলা ও মহানগর পুলিশের সঙ্গে শিল্প পুলিশ কাজ করছে বলে জানান আমজাদ হোসেন।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার আরিফ হোসাইন সংবাদ মাধ্যমকে জানান, শ্রম অসন্তোষ মোকাবেলায় ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছেন।

এদিকে বিক্ষোভের সময় বিভিন্ন মসজিদের মাইকে শ্রমিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়। ঘোষণায় বলা হয়, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং গুজবে কান না দিয়ে আন্দোলন থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করা হয়।

সোমবার দুপুরে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকারের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী কোনাবাড়ীতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেন। তারা নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।