গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির দাম আবার বাড়ানো হয়েছে। নতুন দামে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬০ টাকা, যা আগের চেয়ে ২২৩ টাকা বেশি।
সোমবার (০২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। একই বিজ্ঞপ্তিতে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা।
বিইআরসি বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বাড়ার পাশাপাশি আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বাড়ানো হয়েছে। এসব কারণে দাম সমন্বয় করতে হয়েছে।
বিইআরসির হিসাবে ১২ কেজির সিলিন্ডারপ্রতি আমদানিকারকদের মজুত ও বোতলজাতকরণ চার্জ ২০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৮১ টাকা ৭৬ পয়সা। ডিলারদের চার্জ ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৮৫ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকা হয়েছে।
এমন সময়ে দাম বাড়ানো হলো, যখন বাজারে এলপিজির সরবরাহ নিয়ে অস্থিরতা চলছে এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
গত মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তা বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়। সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে অস্থিরতা শুরু হওয়ার পর কিছু জায়গায় একটি সিলিন্ডারের দাম আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কথা বলে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে। রাষ্ট্রীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন এলপিজির দাম ৬৪ ডলার বাড়ার পর পাঁচটি কোম্পানি ২২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রায় বিক্রিই বন্ধ করে দেয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে তারা হাজার হাজার টন এলপিজি মজুত করে রাখে।
সর্বশেষ গত ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে ভোক্তারা অভিযোগ করেন, তাঁরা নির্ধারিত দামে এলপিজি পাচ্ছেন না। বাজার নিয়ন্ত্রণে বিইআরসির ভূমিকা নিয়েও তাঁরা প্রশ্ন তোলেন। অন্যদিকে পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারা সরবরাহ পরিস্থিতির জন্য আমদানিকারকদের দায়ী করেন।