পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন: গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, ড্রোনে নজরদারি

ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে ‘লাইভ মনিটরিং’ জোরদার করা হয়েছে।

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন: গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, ড্রোনে নজরদারি

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন চলার মধ্যে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে ১২ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) বিজিবির সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। 

বাহিনীটি বলছে, শিল্পাঞ্চলগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই এই মোতায়েন।

বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুরের সফিপুর, কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ি এলাকায় আছেন ১০ প্লাটুন সদস্য।নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় আছেন ২ প্লাটুন। আশুলিয়া ও মিরপুরসহ আরও কিছু এলাকার পরিস্থিতি ‘নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ’ করা হচ্ছে।

বিজিবি আরও বলেছে, তাদের সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন।

বার্তায় বলা হয়েছে, ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে ‘লাইভ মনিটরিং’ জোরদার করা হয়েছে। বিজিবি সদর দপ্তরে বসানো কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকে এসব ক্যামেরার সরাসরি ভিডিও দেখা হচ্ছে।

বিজিবির ভাষ্য, এর মাধ্যমে মাঠের পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে মূল্যায়ন করা, সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় রাখা এবং প্রয়োজনে নির্দেশনা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ঢাকার মিরপুর, গাজীপুর ও সাভারে মজুরি বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। মঙ্গলবার সকালে মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনে মেট্রো স্টেশনের নিচে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সেখানে পুলিশকে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার: মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা। দুই দফায় প্রায় ছয় ঘণ্টা অবরোধ চলে। বিকেলে শ্রমিকেরা সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

শনিবার: মিরপুরের কয়েকটি পোশাক কারখানায় আন্দোলন শুরু হয়। প্রথমে কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ হলেও পরে শ্রমিকেরা রাস্তায় নেমে আসেন।

রবিবার: বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধকে ঘিরে মিরপুরের নানা এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ বলছে, ওই দিন যানবাহনে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। কয়েকজনকে আটক করা হয়।

সোমবার: আন্দোলনরত শ্রমিকদের সড়কে নামতেই দেওয়া হয়নি। মিরপুর ১৪ নম্বর এলাকায় তাঁদের একবার ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করা হয়। পরে মিরপুর ২ নম্বর এলাকায় শ্রমিকেরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়ে তাঁদের সরিয়ে দেয়।