গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (০৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় শেরে বাংলা নগরে জিয়া দম্পতির সমাধিস্থলে যান তাদের জ্যেষ্ঠ ছেলে।
প্রধানমন্ত্রী ফুল দিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং ফাতেহা পাঠ করেন।
পরে তারেক রহমান বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে দলের তরফে শ্রদ্ধা জানান। তাদের মধ্যে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ডোনার, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান ও নুরুল ইসলাম মনি।

অন্যদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বল, মীর সরফত আলী সপু, নুরুল ইসলাম, হাবিবুর রশিদ হাবিব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, উত্তরের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব এস এম জাহাঙ্গীর, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, মুক্তিযোদ্ধা দলের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, যুবদলের এম মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের এস এম জিলানী, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন ও শহিদুল ইসলাম বাবুল, ছাত্রদলের রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাসির উদ্দীন নাছির, উলামা দলের কাজী মো. সেলিম রেজা ও কাজী মোহাম্মদ আবুল হোসেন, তাঁতী দলের আবদুল কালাম আজাদ এবং জাসাসের জাকির হোসেন রোকন।
প্রয়াত দুই নেতার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীসহ নেতারা।
প্রধানমন্ত্রী সমাধিস্থল ত্যাগ করলে নেতাকর্মীদের ঢল নামে। একে একে বিএনপি মহানগর উত্তর, দক্ষিণ, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, মহিলা দল, ছাত্রদল, মৎস্যজীবী দল, তাঁতী দল, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স (অ্যাব), সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নেতাকর্মীদের নিয়ে আলাদা আলাদাভাবে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানান।
বিকাল ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হবে। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ শোভাযাত্রা উদ্বোধন করবেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর সেনাপ্রধানের দায়িত্বে আসেন জিয়াউর রহমান। এরপর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান হয়। জিয়া হন গৃহবন্দি।
৭ নভেম্বর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সঙ্গে যুক্ত মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে পাল্টা অভ্যুত্থানে আটকাবস্থা থেকে মুক্ত হন জিয়া। এর মধ্য দিয়ে তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন।
বিএনপি এই দিনকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করে।
দিবসটি স্মরণে ভোরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলের কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। প্রকাশ করা হয়েছে জিয়াউর রহমানের আলোকচিত্র দিয়ে বানানো রঙিন পোস্টার।