মার্কিন ভিসার আবেদনে ১৫ হাজার ডলারের বন্ড জমা দিতে হবে!

মার্কিন ভিসার আবেদনে ১৫ হাজার ডলারের বন্ড জমা দিতে হবে!

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভিসার অপব্যবহার কমাতে কঠোর হতে যাচ্ছেন মার্কিন সরকার। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচির প্রস্তাব করছে করছে, যার আওতায় কিছু নির্দিষ্ট দেশের পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভিসার আবেদনকারীদের জন্য ১৫,০০০ ডলার (প্রায় ১৮ লাখ টাকা) পর্যন্ত বন্ড জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।

অনেক ব্যবসায়িক এবং পর্যটন ভিসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের এই প্রক্রিয়াটি এক প্রকার অসাধ্য ব্যাপার হতে পারে। প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে এটি কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য মার্কিন ভিসা প্রাপ্তিকে আরও কঠিন করে তুলবে। বিশেষ করে যারা উচ্চ আর্থিক সক্ষমতা সম্পন্ন নন, তাদের জন্য এই পরিমাণ অর্থ বন্ড হিসেবে জমা দেওয়া প্রায় অসম্ভব হতে পারে। ফলে, বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সুযোগ সীমিত হয়ে আসতে পারে।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিভাগটি জানায়, তারা ১২ মাসের একটি পাইলট প্রোগ্রাম শুরু করবে। এক্ষেত্রে, যেসব দেশের নাগরিকদের মেয়াদের অতিরিক্ত অবস্থান করার হার বেশি এবং অভ্যন্তরীণ নথিপত্র নিয়ে জটিলতা রয়েছে সেসব দেশের ভিসা আবেদনের জন্য ৫,০০০ ডলার থেকে ১০,০০০ ডলার অথবা সর্বোচ্চ ১৫,০০০ ডলারের বন্ড জমা দিতে হবে।

ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা আবেদনকারীদের জন্য প্রয়োজনীয়তা আরও কঠোর করার সময় এই প্রস্তাবটি এসেছে। গত সপ্তাহে, পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষণা করেছে যে অনেক ভিসা নবায়ন আবেদনকারীদের অতিরিক্ত একটি ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারের জন্য আবেদন করতে হবে, যা অতীতে প্রয়োজন ছিল না।

এছাড়াও, বিভাগটি প্রস্তাব করছে যে ভিসা ডাইভারসিটি লটারি প্রোগ্রামের জন্য আবেদনকারীদের তাদের নাগরিকত্বের দেশের বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে।

এই প্রস্তাবিত নিয়মটি মূলত সেইসব দেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য হবে যারা পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অতিরিক্ত সময় অবস্থান করার প্রবণতা বেশি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, এই পরিকল্পনা মূলত ভিসা আবেদনকারীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ ত্যাগ করা নিশ্চিত করার একটি ব্যবস্থা। যদি কোনো ব্যক্তি তার ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে, তাহলে তার জমা রাখা বন্ডের সম্পূর্ণ বা আংশিক অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে।

এর মাধ্যমে ভিসা আবেদনকারীদের মধ্যে ভিসার শর্ত মেনে চলার ব্যাপারে সচেতনতা তৈরি করা এবং অতিরিক্ত সময় অবস্থানের প্রবণতা কমানো যাবে বলে মনে করছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এদিকে, এই প্রস্তাবের পক্ষে এবং বিপক্ষে নানা মহলে আলোচনা চলছে। সমর্থকরা বলছেন, এটি মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, বিরোধীরা বলছেন, এটি একটি বৈষম্যমূলক নীতি এবং এর মাধ্যমে দরিদ্র বা মধ্যবিত্ত দেশগুলোর নাগরিকদের প্রতি অবিচার করা হবে। তাদের মতে, এটি ভিসা নীতিকে আরও কঠোর ও অমানবিক করে তুলবে।

বর্তমানে এই প্রস্তাবটি পর্যালোচনা ও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনও কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি। তবে এটি কার্যকর হলে তা আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও অভিবাসন নীতির ওপর একটি বড় প্রভাব ফেলবে।